সফল বাংলাদেশ

সফল বাংলাদেশ: সব সফলতার খবর আলোচনা হোক গর্বের সাথে

টাঙ্গাইলের পোল্ট্রি খামারিদের দিন বদল

NewImage

সুত্র
টাঙ্গাইল দেলদুয়ারের সফল পোল্ট্রি চাষী শাহজাহান মিয়া
এক সময় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বেকার যুবক/যুবতীরা দেলদুয়ারে পোল্ট্রি খামার করেন। তাদের উৎসাহ ও লাভ দেখে অনেক সাধারণ মানুষও পোল্টি খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু হঠাৎ বার্ড-ফ্লু, একদিনের বাচ্চার অস্বাভাবিক দাম, খাদ্য, ওষুধপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির দাম বৃদ্ধি এবং ডিম ও মুরগির দাম কমে যাওয়ায় একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় সবগুলো খামার। পোল্টি শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই অন্য পেশায় চলে যান। ৫/৭ বছর আগে দেলদুয়ারে প্রায় সহস্রাধিক ব্রয়লার ও লেয়ার খামার ছিল। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ ব্রয়লার ও লেয়ার খামার আছে। আগে যেখানে একদিনের বাচ্চার দাম ছিল ৬০/৭০ টাকা, বর্তমানে একদিনের বাচ্চার দাম ১৮ থেকে ২২ টাকা। আগে ১ হালি ডিমের দাম ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা, বর্তমানে ১ হালি ডিমের দাম ৩০ থেকে ৩২ টাকা। আগে ১ কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ৯০ থেকে ১২০ টাকা, বর্তমানে ১ কেজি মুরগির দাম ১৬০ টাকা। খাবার ও ওষুধের দাম কিছুটা বেড়েছে। তার পরও প্রতিটি খামার এখন লাভজনক অবস্থায় আছে। বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পের লাভজনক অবস্থা দেখে অনেক খামারি তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া খামার আবার চালু করেছেন। সরজমিন দেলদুয়ার সদরের শাহজাহান মিয়ার খামার ও বর্ণী গ্রামের শাহআলম মিয়া, আশোক আলী, সোহেল মিয়া, কালাম মিয়া, রাসেল মিয়া, সুলায়মান মিয়া ও করিম মিয়ার পোল্টি খামার পরিদর্শন করে এবং তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাচ্চার দাম কম, ডিমের দাম বেশি হওয়ায় তারা ক্ষতি পুঁষিয়ে লাভজনক অবস্থায় রয়েছেন। দেলদুয়ার সদরে শাহজাহান মিয়ার খামারে প্রায় ৩ সহস্রাধিক লেয়ার মুরগি রয়েছে। বর্ণী গ্রামের শাহআলম মিয়া জানান, তার খামারে ১ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। মুরগিগুলোর বয়স ৭ মাস। একদিনের বাচ্চা তিনি ২২ টাকা দরে কিনেছেন। বাচ্চা বড় হয়ে ৫ মাস বয়স থেকেই ডিম দেয়া শুরু করে। একটানা ১৮ মাস পর্যন্ত ডিম দেয়। শাহ আলম মিয়া প্রতিদিন প্রায় ৯৫০টি ডিম পাচ্ছেন। মহাজনরা বাড়ী থেকেই ডিম কিনে নিয়ে যায়। প্রতি হালি ডিম তিনি পাইকারি ৩২ টাকায় বিক্রি করছেন। তার দেখাদেখি আশপাশের প্রায় ১০/১৫টি খামার গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল আহমেদ বলেন, দেলদুয়ারে ব্রয়লার এবং লেয়ার মিলে প্রায় ৩০০ খামার রয়েছে। বার্ড-ফ্লু না থাকায় এবং প্রানিসম্পদ বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়ায় পোল্টি খামার দিন দিন বেড়েই চলছে। য় দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল

Advertisements
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

সবজি চাষে স্বাবলম্বী সুনামগঞ্জের ভাটির মানুষ

NewImage

শিল্প-বাণিজ্য ডেস্ক

ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দরিদ্র ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীরা মাঠে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে এখন ব্যস্ত। হাওরের যেসব জমিতে তারা চাষাবাদ করছে এক সময় সেসব জমি পতিত ছিল। গ্রামের শত শত নারী অলস সময় কাটাতেন। ঘরবাড়ির কাজ ছাড়া যেন তাদের কোনো কাজই ছিল না। ফলে স্বামীর একার উপার্জনে সংসার চালাতে কষ্ট হতো। কিন্তু দৃশ্যপট বদলে গেছে। গ্রামের অনেক নারী ওই জমিতে বিভিন্নমুখী চাষাবাদে কাজে সম্পৃক্ত হয়ে বাড়তি আয় করছেন। এতে তাদের সংসারের স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে এসেছে। বাসস।
ধাপকাই গ্রামের আছমা জানান, গত ৫ বছর আগে একই জেলার তাহিরপুর উপজেলার কাঞ্চনপুরের বাচ্ছু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রথম দিকে স্বামী তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। কিছুদিন পর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ২ বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে ভেঙে যায় এবং তার মা-বাবা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আছমা বাবার সংসারে থাকলেও পরিবারের বোঝা হতে চাননি। তিনি ২০০৯ সাল থেকে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক এনজিও সংস্থা হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশনের সদস্য হয়ে ভিটাবাড়ি ও পতিত জমিতে সবজি চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। ইতিমধ্যে তার মোটামুটি আয়ও হয়েছে।
৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়া আছমা আরো জানান, তারা ২ ভাই ও ৩ বোন, তিনি চতুর্থ। বাবার ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। বর্তমানে আছমা পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও ৫টি হাঁস, ১৪টি মুরগি ক্রয় ও ১ কেয়ার বোরো জমি লিজ নিয়েছে।
হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশনের ফিল্ড ফেসিলেটর হাজেরা খাতুন (হ্যাপি) জানান, ধাপকাই গ্রামে আছমার মতো এ রকম ৩৪টি পরিবারকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দল গঠন করে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ সরকার যৌথভাবে। ফিল্ড টিম লিডার মাসুদ রানা জানান, মহিলারা কাজকর্মে খুবই আন্তরিক। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা ফিরে আসছে। 
এক সময় দিরাই বাজারে সবজি আসত সিলেট কিংবা অন্য স্থান থেকে। এখন এলাকার মহিলাদের উৎপাদিত সবজিই স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায়। এমনকি অন্য এলাকায়ও তাদের উৎপাদিত সবজি পাইকাররা নিয়ে যায়। 
হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান বলেন, ‘দুস্থ মহিলাদের কর্মজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে ৬২টি দলকে তারা ২০০৯ সাল থেকে সহযোগিতা করছে। দিরাই-শাল্লা উপজেলার মোট সদস্য পরিবার সংখ্যা ১ হাজার।
গত বছর তারা লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, বাঙ্গি, ক্ষিরা, মরিচ, টমেটো, মুলা, ধনিয়া করেছিলেন। এগুলো ছাড়া এ বছর ভুট্টা, আলু, মিষ্টি আলু লাগান। প্রথম বছরের আয় থেকে দলের প্রত্যেক সদস্য পতিত জমিতে সবজি চাষ করে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, বোরো জমিতে আগাম জাতের ধান লাগিয়ে ২ মণ করে ধান, বাড়িতে সবজি চাষে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে পান। 
রফিনগর ইউনিয়নের সেচনী গ্রামের বেগম বিবির ৪ ছেলে, ২ মেয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বিয়ের পর দেখেন উভয় পরিবারে একই চিত্র, দারিদ্র্য আর অভাব। স্বামী রোজ শ্রমিক হওয়ায় সংসার ঠিকমতো চলতো না, অভাবের কারণে ছেলে কিছু লেখাপড়া করার পর আর এগোতে পারেনি। তবে মেয়েটি লেখাপড়া করছে। বেগম বিবি জানান, ধাপকাই গ্রামে যখন ২০০৯ সালে ইন্টার কো-অপারেশনের সদস্য বানানো হচ্ছে, আমাকেও তাদের দলে নেওয়া হয়। সেই থেকে তাদের তত্ত্বাবধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। এ কাজ করে আমার এবং গ্রামের অনেকের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। গ্রামে ক্রমেই দারিদ্র্য কমে আসছে।
ধাপকাই গ্রামের সাদেক মিয়ার (৪৫) স্ত্রী নাছিমা বেগম। ১৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। অভাবের সংসার একে একে কোলজুড়ে আসে ১ ছেলে ও ৪ মেয়ে। নাছিমা বলেন, লেখাপড়া না করায় অন্ধের মতো আছি। সন্তানদের সেই অন্ধকারে রাখতে চাই না। এক সময় সংসারে অভাব থাকায় মাটি কাটার শ্রমিকের কাজ করেছি। এখন আর তা করতে পারি না। অভাবের সঙ্গে সংগ্রাম করেছি, কিন্তু অভাব দূর হয়নি। অবশেষে ২০০৯ সালে হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশন আমার মতো ৩৪টি পরিবারকে নিয়ে উদ্দীপনা দল গঠন করে দেয়। তাদের দেওয়া পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে এখন অর্থনৈতিক দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি।
এলাকার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মহব্বত আলী জানান, এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা ও অভাবী নারীরা বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে, এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

হাসিনার প্রতি ৭৭% মানুষের আস্থা রয়েছে

Prothom alo logo

অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১২-০৫-২০১২

বাংলাদেশের তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের চালানো এক জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০১১ সালে চালানো জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত এ তথ্য গতকাল শুক্রবার সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের প্রতি ৭৭ শতাংশ বাংলাদেশির আস্থা রয়েছে। আর ১৯ শতাংশ মানুষ তাঁর কাজে খুশি নয়। ৪ শতাংশ মানুষ এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এশিয়ার ২১টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের কাজের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এশিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথমের দিকেই রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তালিকায় তাঁর অবস্থান সপ্তম।
জরিপে এক হাজার লোকের মুখোমুখি এবং টেলিফোনে সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৫ বছরের ওপরে। ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্যালাপ ২১টি দেশে এ জরিপ চালায়।
তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছে লাওসের সরকার। ওই সরকারের প্রতি সে দেশের ৯৭ শতাংশের আস্থা রয়েছে। মাত্র ২ শতাংশ সরকারের প্রতি নাখোশ এবং ১ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেনি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে কম্বোডিয়া। ৯৩ শতাংশ কম্বোডিয়ানের তাদের সরকারের প্রতি আস্থা রয়েছে। শ্রীলঙ্কা তালিকায় তৃতীয় স্থানে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষের ওপর এখনো আস্থা রেখেছে ৯১ শতাংশ মানুষ। এর পরের স্থানগুলোতে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধু শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে শেখ হাসিনার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে হাসিনা পেছনে ফেলেছেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়েশিহিকো নোদা, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোয়ানো ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরে রয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি অবস্থান ২১তম। জারদারি সঠিক পথে আছেন—দেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ তা মনে করে । আর তাঁর প্রতি অনাস্থা ৭৭ শতাংশ মানুষের। ৫৯ শতাংশ ভারতীয় মনে করে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সঠিক পথে চলছেন। আর প্রধানমন্ত্রী ইয়েশিহিকোর প্রতি আস্থা রেখেছে মাত্র ৪৪ শতাংশ জাপানি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৫ শতাংশ মানুষের। ফিলিপাইনের অ্যাকুইনোর প্রতি ৮০ শতাংশ এবং ৭৮ শতাংশের সমর্থন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজাকের প্রতি। রাজাক তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করে। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।


NewImage

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

শেক্সপিয়রের গ্লোব থিয়েটার কাঁপালো বাংলাদেশের `দ্য টেম্পেস্ট’

আ স ম মাসুম, লন্ডন থেকেবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

NewImage

যখন শিমুল ইউসুফের মোহনীয় কন্ঠে সুরেলা আওয়াজ ছড়িয়ে পড়লো গ্লোব থিয়েটারের পুরো চত্বরে তখন উপস্থিত সহস্রাধিক দর্শক নড়েচড়ে বসলেন।
‘ওই যে দেখা যায়, কি সুন্দর আকাশ’ এটাই বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক শেক্সপিয়রের নিজের কোম্পানির তৈরি গ্লোব থিয়েটারের ৩শ’ পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে প্রথম উচ্চারিত বাংলা শব্দ। যে থিয়েটার সারা পৃথিবীর মঞ্চকর্মীদের জন্য তীর্থস্থান সেই মঞ্চে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশের কোনো দলের নাটক।

NewImageগ্লোব থিয়েটার সারা পৃথিবী থেকে বাছাই করে নিয়ে এসেছে ৩৭ টি নাটকের দলকে শেক্সপিয়রের নাটক মঞ্চায়ন করার জন্য। ৭ই মে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থিয়েটার প্রদর্শন করলো শেক্সপিয়রের কালজয়ী নাটক ‘দ্য টেম্পেস্ট’। নাটকটি দেখার জন্য বিরূপ আবহাওয়া ডিঙ্গিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সংস্কৃতিমনা বাঙালি যেমন ছুটে এসেছিলেন তেমনি নজরকাড়া উপস্থিতি ছিলো মূলধারার বৃটিশদের। ১০ ডিগ্রি ছিলো তাপমাত্রা।
খোলা প্রাঙ্গণের থিয়েটারের উম্মুক্ত আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মঞ্চকর্মী জিয়াউর রহিম সাকলায়েন বললেন, তিনি এসেছেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে। আরেক মঞ্চকর্মী অভিনেতা রাজু চক্রবর্তী বললেন, “চিন্তায় আছি এই ঠাণ্ডায় কিভাবে নাটক করবেন বাংলাদেশ থেকে আসা অভিনেতারা।“ রাজুর সেই চিন্তাকে মিথ্যা প্রমাণ করে শঙ্খধ্বনিতে প্রকম্পিত গ্লোব থিয়েটারে রাজা প্রসপেরো মায়াজগতে স্বাগত জানালেন। মৃদঙ্গের তুমুল বাদ্য; অ্যারিয়েল রূপী “মঞ্চকুসুম“খ্যাত শিমুল ইউসুফের আহবান দর্শকদের নিয়ে চলে নাটকের গভীরে। নাছোড়বান্দা মেয়ে মিরান্ডার আকুতিতে প্রসপেরো বলে যান কেমন করে সহোদরের চক্রান্তে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয় তাদের। বলেন, প্রকৃতিই বাবা ও মেয়েকে বাঁচিয়েছে; হয়েছেন জাদুতে শক্তিধর। মণিপুরিদের ঢোল বাজানোর কসরতের মাঝেই বেজে ওঠে বিরতির ঘন্টা।

NewImageবিরতির সময় জানতে চাইলাম পাশে দাঁড়ানো এক বৃটিশ মঞ্চকর্মী অ্যামির (২১)  প্রতিক্রিয়া। সে এক কথায় বলে উঠলো, ‌ “গ্রেট পারফরমেন্স…গ্রেট ফিলিংস।“ আরেকজন রবার্ট (৩৫) গার্লফ্রেন্ড নিয়ে এসেছেন লন্ডন থেকে ৪০০ মাইল দূরের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ থেকে। তিনি জানালেন, শেক্সপিয়রের নাটককে যে এভাবে ফরম্যাট থেকে ভেঙ্গে নিজস্ব কৃষ্টি কালচার দিয়ে উপস্থাপন করা যায় সেটি দেখে অভিভূত হয়েছেন। সাথে বান্ধবী সারাহ (২৮) বললেন, “অন্তত ব্যাংক হলিডের এই সন্ধ্যাটা ভালোই কাটলো এক আশ্চর্য অনূভূতির মধ্যে দিয়ে।“ একই ধরনের আশ্চর্য ভালো লাগার অনুভূতির মধ্য দিয়ে টেমসের পাড়ে দাঁড়িয়ে বিরতির সময় আড্ডায় মেতেছিলেন ৫ শতাধিক বাঙালি।
এরই মাঝে অন্ধকার হয়ে এলো, মঞ্চে জ্বলে উঠলো  হ্যালোজেন বাতি। ছেলেকে হারিয়ে রাজা এলনসো বিধ্বস্ত; বেঁচে যাওয়া  সাথীও তাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করে। অন্যদিকে ঝড়ের কবলে পড়ে পানিতে ভেসে প্রসপেরোর দ্বীপে আসে অজানা শত্রুর ছেলে ফার্ডিনান্ড । দিন যায়, নানা পরীক্ষার পর; শর্তসাপেক্ষে তাকে দ্বীপে থাকার অনুমতি দেন। ফার্ডিনান্ড ও মিরান্ডা একে অপরের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ বেড়ে চলে। শেষ পর্যন্ত ফার্ডিনান্ডের হাতেই আদরের ধন মিরান্ডাকে তুলে দেন প্রসপেরো। সময় গড়ায়, ফিরে পান রাজ্য, ঘাতকরা ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনায় ভোগে।মুক্ত করে দেন কয়েদিদের, মায়বিনী আরিয়েলকে মুক্ত করে দেন চিরতরে। ভৃত্য ক্যালিবান রাজা হয় প্রসপেরোর দ্বীপে। ক্যালিবানের শঙ্খধ্বনিতে আবারও নড়েচড়ে উঠে দর্শক। তুমুল করতালির মাঝে যবনিকাপাত হয় দ্য টেম্পেস্টের। 
শিমুল ইউসুফ ছাড়া অন্যান্য কুশীলব কামাল বায়েজিদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল ইসলাম পাখি, চন্দন চৌধুরী, এষা চৌধুরী, রুবাইয়াত, সাইমুন, রফিকুল ইসলাম, সাজ্জাদ, রুবল, নীল মনি সিংহ, বিধান চন্দ্র সিংহর পারফরমেন্স ছিলো দেখার মতো।
দর্শকদের তুমুল করতালি আর দূর থেকে ভাসিয়ে দেয়া চুমুতে সিক্ত হন শিল্পীরা, মঞ্চ থেকে শুরু করে দর্শক সারি সবখান থেকেই সুর ওঠে “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।“ নানা ভাষার উপস্থিত দর্শকও সুর মেলায় বাংলাদেশ… নড়েচড়ে ওঠে শেক্সপিয়রের গ্লোব থিয়েটার…মঞ্চে ওড়ে লাল সবুজের পতাকা। মঞ্চায়নের পুরোটা সময় নির্দেশক নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ছিলেন উম্মুক্ত প্রাঙ্গণে। দাঁড়িয়ে থেকে উপভোগ করেছেন নিজের ক্রিয়েশন। নাটক শেষ হওয়া মাত্রই দর্শকদের অফুরান ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হোন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, “বাহাত্তর সালে বেইলি রোডের রাস্তায় হেঁটে হেঁটে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে থিয়েটারের শুরু করেছিলাম, আজ এতো বছর পর মনে হচ্ছে কিছু একটা করতে পেরেছি; আমি গর্বিত। এ প্রাপ্তি আমার দলের একার নয়, বাংলাদেশের নাট্যসংশ্লিষ্ট সবাই এর ভাগীদার।“
বিরূপ আবহাওয়া আর ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছাপিয়ে ৭ মে সোমবার বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে জ্বলজ্বল করবে। যেভাবে জ্বলজ্বল করবে গ্লোব থিয়েটারের ইতিহাসেও।

NewImageবাংলাদেশ সময় ১৫৫৫, মে ৯, ২০১২সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট  এডিটর

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

Bangladesh Is South Asia’s Standard-Bearer The former ‘basket case’ is more moderate on religion and more pragmatic on development than its peers

Bangladesh Is South Asia’s Standard-BearerThe former ‘basket case’ is more moderate on religion and more pragmatic on development than its peers

Despite its 160-million strong population, Bangladesh can find it hard to elbow its way onto the global stage. It’s in an area where India is cast in the lead as the dominant economy, Pakistan plays the intermittent villain, and Sri Lanka and Nepal feature in cameos as countries with uncertain futures. Yet when U.S. Secretary of State Hillary Clinton touches down in Dhaka Saturday—the highest ranking American official to visit in nearly a decade—she’ll encounter a country that can teach a lesson or two to all other regional actors.

The world’s third-most populous Muslim-majority country stands out as a model of moderation. Unlike in virtually every other country in the Muslim world, Islamists in Bangladesh are on the defensive. Seven people, including high profile leaders of the Jamaat-e-Islami, South Asia’s most powerful Islamist group, face war crimes charges for their role in slaughtering Bangladeshi patriots, Muslim and Hindu alike, during the country’s 1971 war of independence against Pakistan.

Current Prime Minister Sheikh Hasina Wazed’s father, Sheikh Mujibur Rahman (1920-75) led that struggle, which claimed 3 million lives according to the Bangladesh government. The trial reveals the government’s willingness to deal with one of the most painful episodes in the young nation’s history. It also shows its refusal to allow Islamists to label the regime as “anti-Islam” for pursuing them, a form of blackmail that often obstructs justice in other places.

In a similar vein, Bangladesh can boast one of Asia’s best records of fighting Islamist terrorism. The South Asia Terrorism Portal estimates that only nine people have lost their lives since Ms. Hasina swept to power at the end of 2008. In the four years before that, terrorists claimed 56 lives at home, while the Bangladeshi terrorist group Harkat-ul-Jihad al-Islami (or HuJi-B) carried out high-profile terrorist strikes in India.

Much of Bangladesh’s success in confronting the most intolerant elements within its own society comes from crafting an inclusive national narrative. Unlike Pakistan, Bangladesh does not define itself by faith alone. Most Bangladeshis see no contradiction between being proud Muslims and proud Bengalis. This self-confidence gives the country the ability, which some other Muslim societies lack, to push back against extremism.

EPA

Prime Minister Sheikh Hasina Wazed.

Then there’s the down-to-earth pragmatism present in Dhaka’s approach to development. Over the past five years, the economy has expanded on an average of 6% per year. Unlike India, which is hobbled by socialist-era labor laws that interfere with hiring and firing, Bangladesh has built a world-class apparel industry that employs more than 3.5 million people and supplies global brands like H&M, Walmart and Tommy Hilfiger. Thanks to this, the country is already the world’s second largest exporter of readymade garments after China. If it plays its cards right, Bangladesh, more than any other South Asian nation, could attract a fresh wave of labor-intensive manufacturing looking for cheaper alternatives to China. Goldman Sachs lists Bangladesh among its “Next 11,” countries that have the potential to become major economies.

And after years of tensions with its bigger neighbor, Bangladesh is now being practical and seeking to normalize ties with India. The two countries have already settled long festering territorial disputes and opened up trade. A landmark transit agreement would place Bangladesh at the heart of a potentially dynamic growth corridor encompassing northeastern India and a newly democratizing Burma. This is currently being stymied by Indian politician Mamata Banerjee, who as chief minister of the West Bengal state that borders Bangladesh opposes an allied water-sharing agreement with Dhaka.

Still, Dhaka and New Delhi are pushing for this agreement and it could succeed, possibly ushering in a new peace dividend in the region. At any rate, Dhaka’s pragmatism in its foreign relations stands in contrast to India, which can’t always suppress its preachy rhetoric of nonalignment (toward the West), as well as Pakistan, which often sputters in a sea of Islamic fundamentalism and knee-jerk opposition to India.

That said, Bangladesh is hardly free of problems. Ms. Hasina and her chief opponent, the Bangladesh Nationalist Party’s Khaleda Zia, have created a poisonous zero-sum politics, which has come to the fore again in recent days. The BNP is up in arms at the disappearance of one of its leaders last month and they blame Ms. Hasina’s ruling party. They have shut down the country with crippling national strikes four times in the past month.

No one knows how the BNP official in question disappeared, though, and a string of similar disappearances reflect a deteriorating law and order situation. Either law enforcement is engaged in extra-judicial actions, or vigilantes can roam free with impunity. Neither is encouraging.

Meanwhile, the Islamist threat has been reduced but not eliminated. The BNP remains at best ambivalent and at worst actively sympathetic toward Islamist forces similar to those that have helped drag Pakistan in a downward spiral. And though Bangladesh’s army deserves some credit for keeping its distance from politics since late 2008, it’s by no means certain that the country’s latest experiment with democracy, barely three and a half years old, will last. The military first seized power in 1975, and has done so repeatedly since.

But for now, these worries can take a back seat. This weekend, a country once dismissed by former U.S. Secretary of State Henry Kissinger as a basket case, gets to show one of his successors how wrong it has proven him.

Mr. Dhume is a resident fellow at the American Enterprise Institute in Washington, and a columnist for WSJ.com. Follow him on Twitter @dhume01


link

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

world’s largest Alpona- a hand painted motif- on Manik Mia avenue in Dhaka

http://www.youtube-nocookie.com/v/jLTcVmqA2lY?version=3&hl=en_US

On 14th April, 2012, to celebrate the the Bangla new year, airtel, supported by Prothom Alo, got together with 5 of the country’s leading artist to create history. The dream was to paint the world’s largest Alpona- a hand painted motif- on Manik Mia avenue in Dhaka.

http://www.youtube-nocookie.com/v/sCDGSVeyYAQ?version=3&hl=en_US

 

http://www.youtube-nocookie.com/v/pEndgPcIt5Q?version=3&hl=en_US

http://www.youtube-nocookie.com/v/klaodGWzMZc?version=3&hl=en_US

 

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

সামুদ্রিক শৈবালের গুণ:চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ এর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাফরের গবেষণা

NewImage

চবি: ‘সামুদ্রিক শৈবাল’ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ হিসেবে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে মানুষের ভক্ষণযোগ্য ও শিল্পের কাচাঁমাল ছাড়াও রপ্তানি পণ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এ জলজ উদ্ভিদ।  
এটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং ঔষুধি ও শিল্পের কাঁচামালে সমৃদ্ধ প্রজাতি। এর ক্যরাজিনান নামক পদার্থ মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এমনকি ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়।
সামুদ্রিক শৈবালের এমনসব গুণসহ নানা তথ্য উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ এর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাফর পরিচালিত এক গবেষণায়।  
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে সেন্টমার্টিনস দ্বীপে ১৪০ প্রজাতিরও বেশি শৈবাল পাওয়া যায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে কোন ভূমিকাই রাখছে না, বরং সমুদ্রতটে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। 
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশ‍ালী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেন্টমার্টিনস দ্বীপ ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের লবণাক্ত জলরাশিতে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হওয়া এই ‘সামুদ্রিক শৈবাল’ যার বৈজ্ঞানিক নাম Hypnea sp ও  Caulerpa racemosa।
বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে ড. মোহাম্মদ জাফর বলেন, ‘জলজ উদ্ভিদ শৈবাল আমরা প্রতি নিয়ত অবচেতন মনে ব্যবহার করছি। চকলেক, ট্যাবলেটের বাইন্ডিংসহ নানাভাবে একে আমরা ব্যবহার করি।’
ব্রিটিশ সরকারের আর্ন্তর্জাতিক সংস্থা ডিএফআইডি (DFID) এর সোফার (SUFER) প্রকল্প এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজের কারিগরি সহযোগিতায় এ গবেষণা সম্পন্ন করেছেন প্রফেসর ড. জাফর। যা দেশের জলজ উপকারী উদ্ভিদ চাষের ক্ষেত্রে একটি নতুন ও সম্ভবনাময় দ্বার খুলে দিয়েছে।
এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু ঔষুধই নয়- অর্থনীতিতেও এর অবদান রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ জাপানে জিডিপির শতকরা ১ শতাংশ অবদান রাখছে শৈবাল। চীন ও জাপানে জনগণের খাদ্যভাসে শৈবাল রাখায় ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কম। অনেক সময় ডায়রিয়ার ঔষধ হিসেবেও এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। টিউমার বৃদ্ধি রহিতকরণের পদার্থ  তো এতে আছেই।’ 
বাংলাদেশেও শৈবাল হতে অন্যতম রপ্তানি পণ্য। এই প্রয়োজনীয় জলজ উদ্ভিদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও রক্ষায় সরকারি পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগ দরকার বলে মনে করেন তিনি। 
দেশে শৈবাল চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন জানিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে গবেষক ড. জাফর বলেন, ‘বিশ্বে সামুদ্রিক শৈবালের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১০ মিলিয়ন মেট্রিকটন। বাংলাদেশের জন্য সামুদ্রিক শৈবাল চাষ সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা।’
‘দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে (প্রধানত সেন্টমার্টিনস দ্বীপে) সামুদ্রিক শৈবাল চাষ শুরু হয়েছে। ম্যানগ্রোভ এলাকাও প্রায় ১০ প্রজাতির শৈবাল আছে। এগুলো সংগ্রহ ও চাষাবাদ করে অনেক বেকার স্বাবলম্বীও হচ্ছে।’-জানালেন জাফর।
তবে স্থানীয় লোকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই বলেও জানান তিনি। 
মাঠ পর্যায়ে গবেষণা তথ্যে জানা যায়, Hypnea sp (যা কুমারীর চুল বা সেমাই হিসেবে পরিচিত) একটি দ্রুত-বর্ধনশীল প্রজাতি এবং এটি যে কোন শক্ত বস্তুর উপর জন্মে। প্রবাল, পাথর, রশি, বাঁশসহ অন্য শৈবালের উপরও জন্মে এই জলজ উদ্ভিদ।
গবেষক জানান, সরকার সেন্টমার্টিনস এলাকাকে ‘ক্রিটিক্যাল জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু ওইখানে বাণিজ্যিকভাবে ও প্রাকৃতিকভাবে শৈবাল চাষ করলে পরিবেশের আরও সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পাদিত এ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০২ সালে। এর উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য সামুদ্রিক শৈবাল চাষ প্রদ্ধতির উদ্ভাবন, যা সহজেই স্থাপনযোগ্য ও চাষের অনুকূলে। এ প্রযুক্তি চাষীরা সহজেই ব্যবহার করতে পারে এবং চাষ পদ্ধতির উপাদানগুলো জৈব ও পরিবেশ বান্ধবও বটে।’
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সামুদ্রিক শৈবালের ব্যাপক চাষের উদ্যোগ, এর পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক চাহিদা, জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা, ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলে দেশে এর বৈধ ও স্থায়ী বাজার সৃষ্টি সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন গবেষক ড. জাফর। 
‘সেন্টমাটিনস দ্বীপের স্থানীয় লোকজন জোয়ার-ভাটার অর্ন্তবর্তী স্থান থেকে সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করে সূযের্র তাপে শুকিয়ে তা প্রতি মণ ২৫০-৫০০ টাকা (৭ থেকে ৮ ডলার) হারে মিয়ানমারে বিক্রি করছে। যা যুগ যুগ ধরে চলছে।’ 
জিডিপিতে বিশেষ অবদান রাখতে পরে এই সামুদ্রিক শৈবাল দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই প্রয়োজনীয় জলজ উদ্ভিদের যদি কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে মিয়ানমার ছাড়াও জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর, হংকং, ব্রাজিল, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের আন্তর্জাতিক বাজার দখল করা সম্ভব।’ 
বাংলানিউজকে ড. জাফর এ সর্ম্পকে বলেন, ‘উচ্চ পুষ্টিমান গুণসম্পন্ন এ জলজ উদ্ভিদটি ডায়াবেটিসের প্রতিরোধ হিসেবে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপই এই সামুদ্রিক শৈবাল বাংলাদেশের একটি নতুন রপ্তানি পণ্য হিসেবে যোগ হয়ে অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে পারে।’ 
বাংলাদেশ সময়:  ০৭৩১ ঘণ্টা, মে,০৪,২০১২এমবিএম/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »