সফল বাংলাদেশ

সফল বাংলাদেশ: সব সফলতার খবর আলোচনা হোক গর্বের সাথে

ZeeNews: Bangladesh wins maritime suit against Myanmar

NewImage

South Asia

Bangladesh wins maritime suit against Myanmar

Last Updated: Wednesday, March 14, 2012, 23:36

Dhaka: Bangladesh on Wednesday claimed victory in its vexed maritime dispute with Myanmar at a UN tribunal, giving it crucial rights on outer Continental Shelf in the Bay of Bengal. 

“We have achieved more than what we expected,” foreign minister Dipu Moni said, reacting to the verdict given by the International Tribunal for Laws of the Sea (ITLOS) at Humburg in Germany. 

She added that Bangladesh demanded 1,07,000 square kilometers in the Bay of Bengal but the ITLOS verdict awarded us with 1,11,000 sq kilometers. 

“The biggest point was that, India and Myanmar the countries which are in dispute with Bangladesh, earlier wanted to draw the cut off line at 130 nautical miles but now it will be expanded up to 200 nautical miles…,” Moni said. 

She added: “this (verdict) has (also) ensured Bangladesh’s crucial rights on outer Continental Shelf”.

Continental shelf is the extended perimeter of each continent and associated coastal plain. The dispute with India over a similar issue would be settled by 2014, bdnews 24 reported. 

Moni said the ITLOS judgement gave the “full effect on St Martine’s Island” in Bangladesh?s favour, meaning Bangladesh would have full territorial and economic rights surrounding the southeastern island up to 200 nautical miles towards the Continental Shelf in an angle of 215 degrees. 

PTI

First Published: Wednesday, March 14, 2012, 23:36
Advertisements
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

সমুদ্রে সীমানা চিহ্নিত, এখন সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ জরুরি

NewImage
সাক্ষাৎকার
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ খুরশেদ আলম

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : শেখ রোকন

সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়ে অন্যতম নিয়ামক ভূমিকা রাখার কারণে দেশ-বিদেশে আলোচিত নাম রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ খুরশেদ আলম (অব.) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সত্তরের দশকের শুরুতে ভারতের কোচিনস্থ ইন্ডিয়ান নেভাল একাডেমি থেকে রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক লাভ করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯৭৪-৭৬ সালে ভারত থেকেই প্রথম শ্রেণী পেয়ে সমাপ্ত করেছেন নেভাল প্রফেশনাল কোর্স। ইতালিতে প্রথম শ্রেণী পেয়েছেন টেলিকমিউনিকেশন কোর্সে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চিহ্নিত করা সংক্রান্ত আলোচনায় তাকে বাংলাদেশের দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। ২০০২ সালে তাকে নৌবাহিনী থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সাল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাউথইস্টে সমুদ্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে অধ্যাপনা করেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশন, ঢাকার সদস্য খুরশেদ আলম ২০০৪ সালে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম চ্যালেঞ্জেস ইন দি টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ শীর্ষক সাড়া জাগানো বই রচনা করেন। এ ছাড়াও তার রয়েছে ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দি ল’ অব দি সি-থ্রি, ল’ অব দি সি অ্যান্ড ইটস ইম্পিক্লেশন ফর বাংলাদেশ, রিজিওনাল মেরিটাইম কো-অপারেশন আন্ডার দি সার্ক, আসিয়ান রিজিওনাল কো-অপারেশনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা

সমকাল : কেমন করে যুক্ত হলেন সমুদ্র জয়ের অভিযানে?
খুরশেদ আলম : সত্তরের দশকের শেষ দিকে ভারতের সঙ্গে তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে বিরোধের সময় ১৩০ টনের ছোট একটি গানবোটের কমান্ডে ছিলাম আমি। আর প্রতিপক্ষের ছিল ১১০০ টনের চারটি যুদ্ধজাহাজ, যার প্রতিটিতে ৪-৫টি কামান। আমাদের ভরসা কেবল একটি কামান। জুনিয়র অফিসার হিসেবে সেখানে এক মাস অবস্থানকালে বুঝতে পারি, প্রধানত অর্থনৈতিক কারণে নৌবাহিনীতে তাদের সমকক্ষতা অর্জন করা দুরূহ হবে। সাগরের দ্বীপে তাদের দখলও সরানো যাবে না। শক্তিবলে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত পন্থায় ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ অনুসন্ধানে সে সময় থেকেই আমি লেগে পড়ি। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদে টেরিটরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট পাস করেন। এ যুগান্তকারী ও দূরদর্শী আইনে বঙ্গোপসাগর এবং এর সম্পদের ওপর ১২ নটিক্যাল মাইল টেরিটরিয়াল সি, ২০০ কিলোমিটার এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক এলাকা এবং মহীসোপানে বাংলাদেশের অধিকার ঘোষণা করা হয়। ভারত ও মিয়ানমার স্বাধীনতা আগে পেলেও তাদের সাগর-সীমানা ধরে এ দাবি উত্থাপনের কাজটি করেছে আরও পরে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এ উপলব্ধি আমাকে বঙ্গোপসাগর নিয়ে কাজ করতে আরও অনুপ্রেরণা জোগায়। 
সমকাল : জাতিসংঘে আমাদের সমুদ্রসীমার দাবি তো পেশ হয়েছে অনেক পরে। বিলম্ব হলো কীভাবে? 
খুরশেদ আলম : ১৯৮২ সালে সমুদ্র আইন বিষয়ক নতুন জাতিসংঘ কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে। ওই অনুষ্ঠানে দু’জন রাষ্ট্রদূত, নৌবাহিনী প্রধানসহ আমি নিজেও ছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলো কেন যেন সেটা অনুস্বাক্ষর করেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে রেটিফাই করে। ১২ জুলাই ২০০১। তারপর যে পরিস্থিতি উদ্ভব হয় তা হচ্ছে, কনভেনশনে বলা আছে, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে যদি মহীসোপান চাই, রেটিফিকেশন-পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে মহীসোপানের দাবি তথ্য-উপাত্ত, যুক্তিসহকারে জাতিসংঘে পেশ করতে হবে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে আমি যখন দায়িত্ব নিলাম, ততদিনে নয় বছর শেষ হয়ে গেছে। ওই এক-দেড় বছরের মধ্যে সব তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র প্রস্তুত করতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে, বাংলাদেশের উপকূল থেকে সমুদ্রের তলদেশে একই ধরনের সেডিমেন্ট অব্যাহত রয়েছে। এটা প্রমাণ করার জন্য সিসমিক ও বেজমেন্ট সার্ভে করা দরকার। আগে আমাদের দেশে কখনও সিসমিক সার্ভে হয়নি। উপযুক্ত জাহাজও নেই, তা ভাড়া করতে হবে। আমি অনেকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে দেখলাম এ জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা লাগে। মাননীয় মন্ত্রী প্রস্তাবটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান। তখন বাজেট পাস হয়ে গেছে; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ব্যবস্থায় ওই অর্থের ব্যবস্থা করলেন। বরাদ্দ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিলাম। কারণ সার্ভের জন্য কেবল একটি সিজন ছিল_ ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে মার্চ ২০১০। এর মধ্যে করতে না পারলে জাতিসংঘে যথাসময়ে দাবি পেশ করা যাবে না। আমরা ডাচ সরকারকে কাজটি করে দেওয়ার অনুরোধ জানালাম। তাদের একটি জাহাজ তখন প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ফিরছিল। ২০১০ সালের মার্চে সার্ভে সম্পন্ন হয়। আমরা প্রমাণ করলাম বাংলাদেশের মাটি ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকার তলদেশ একই উপাদানে গঠিত। এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর জন্য বিএনএস অনুসন্ধান নামে একটি জরিপ জাহাজ কিনে দেন। পরে আমরা সব তথ্য-উপাত্ত জাতিসংঘের একজন কমিশনারকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিলাম। পরে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমরা দাবিনামা পেশ করি।
সমকাল : বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে গেল কোন প্রেক্ষাপটে?
খুরশেদ আলম : আপনাদের মনে আছে, সরকার সমুদ্রবক্ষে ২৮টি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ব্লক করেছিল। সেগুলোর টেন্ডারও আহ্বান করা হলো। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কনোকোফিলিপস বেশ কিছু ব্লক পেয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার বলল এর ১৭টি ব্লক তাদের সীমানায়। আর ভারত দাবি করল ১০টি। আমাদের থাকল মাত্র একটি ব্লক। আসলে আমরা সমুদ্রসীমা নির্ধারণ না করেই ব্লক ঘোষণা করেছিলাম। এটা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত কাজ হয়নি। মিয়ানমার ও ভারতের দাবি অনুযায়ী আমাদের সমুদ্রসীমা ১৩০ মাইলের মধ্যে আটকে গেল। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তখন বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা হলো। আমাকে বলা হলো তেল-গ্যাস ও মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ এত বড় এলাকা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে সুরাহা হবে না। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। বাংলাদেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আমাদের আন্তর্জাতিক আদালতেই যেতে হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন। আমরা তখন আরবিট্রেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকলাম। 
সমকাল : কতদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন? বিষয়টি তো কড়া গোপনীয়তার মধ্যে ছিল।
খুরশেদ আলম : আমাদের লেগেছে চার-পাঁচ মাস। হ্যাঁ, কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করেছি আমরা। অনেকে অভিযোগ করে থাকেন, বাংলাদেশে কোনো কিছু গোপন থাকে না। আশঙ্কা ছিল যে আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও সাধারণ মানুষ জেনে যাবে। আমরা সেটা হতে দিইনি। বিষয়টি যদি ভারত বা মিয়ানমার জানতে পারত তাহলে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার আশঙ্কা ছিল। এমন নজির রয়েছে। তাতে করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়া আমাদের আর উপায় থাকত না। ২০০৯ সালের অক্টোবরে হেগে অবস্থিত সমুদ্রসীমা বিষয়ক স্থায়ী আদালতে আমরা ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। 
সমকাল : ভারত ও মিয়ানমার আমাদের এসব প্রস্তুতির ব্যাপারে কোন পর্যায়ে এসে জানতে পারে?
খুরশেদ আলম : প্রথম দিকে জানত না। একেবারে শেষ মুহূর্তে আমরা তাদের জানিয়েছি। তারা বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেছে; কিন্তু কাজ হয়নি। ভারত মহীসোপানের দাবি জানিয়েছে ২০০৯ সালে। মিয়ানমার তারও আগে, ২০০৮ সালে। আমরা যদি ২০০১-০৭ সালের মধ্যে দাবি জানাতাম, তাহলে সিদ্ধান্ত এতদিনে পেয়ে যেতাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে সময় সরকার জরিপও চালায়নি।
সমকাল : আমরা দেখলাম, বাংলাদেশ-মিয়ানমার মামলা হেগের আদালত থেকে জার্মানির হামবুর্গের আদালতে স্থানান্তর হয়েছিল বোধহয় মিয়ানমারের প্রস্তাবে। তারা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? আপনার কী মনে হয়?
খুরশেদ আলম : হ্যাঁ, প্রস্তাবটা মিয়ানমারের দিক থেকেই ছিল। তারাই ইটলসে যাওয়ার কথা বলেছিল। আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। জাতিসংঘ স্থায়ী আদালতে যে কোনো পক্ষই এককভাবে যেতে পারে। কিন্তু ইটলসে যেতে হলে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন হয়। আর মিয়ানমারের দিক থেকে বোধহয় হিসাব ছিল যে হেগের আদালতে তারা সুবিধা করতে পারবে না। কারণ তারা ছিল তখনও একঘরে। সেখানে মাত্র পাঁচজন বিচারপতি। আর হামবুর্গে ২২-২৩ জন বিচারপতি। সেখানে কারও পক্ষে কারসাজি করা কঠিন হবে।
সমকাল : রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল কোন কোন দিক বিবেচনা করেছেন?
খুরশেদ আলম : ট্রাইব্যুনাল তিনটি পর্যায়ে বিবেচনা করেছেন। প্রথম হচ্ছে টেরিটোরিয়াল সি। ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত টেরিটোরিয়াল সির সীমানা নির্ধারণের ব্যাপারে ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ঐকমত্য হয়েছিল। পরে বিষয়টি ফাইলে পড়ে ছিল, পরবর্তী সরকারগুলো এটাকে আর চুক্তিতে পরিণত করেনি। ফলে আদালতে গিয়ে মিয়ানমার বলল, এটা তো সম্মত কার্যবিবরণী মাত্র। তারা এটা আর মানেন না। ইতিমধ্যে জাতিসংঘেও নতুন কনভেনশন হয়েছে। মিয়ানমার চেয়েছিল ৬ মাইল হোক। আমরা ১২ মাইল অথবা ১৯৭৪ সালের ঐকমত্য বলবৎ চেয়েছি। দু’পক্ষই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। শেষ পর্যন্ত আদালত ‘৭৪ সালের দলিল না মানলেও সমদূরত্ব নীতিতে ১২ মাইল টেরিটোরিয়াল সি নির্ধারণ করে দেয়। সেটা অবশ্য ‘৭৪ সালের সীমানারই অনুরূপ। বরং আমাদের কিছুটা লাভই হয়েছে।
আদালতের দ্বিতীয় বিবেচনা ছিল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন। মিয়ানমার বলেছিল, তোমাদের আঁকাবাঁকা উপকূল রেখার জন্য তো আমরা দায়ী নই। ফলে সমদূরত্ব পদ্ধতিতে সীমানা নির্ধারণ হতে হবে। আমরা বলেছি, উপকূল আঁকাবাঁকার জন্য তো আমরাও দায়ী নই। প্রকৃতির ব্যাপার। আদালতকে বাংলাদেশের প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে। জার্মানি নিজেই তো ডেনমার্কের বিরুদ্ধে মামলায় ইকুইটির কথা বলেছে। আদালত আমাদের যুক্তি মেনেছেন। তৃতীয় বিষয় ছিল মহীসোপান। এটা একটু জটিল। কারণ আমাদের ২০০ মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন শেষ হওয়ার পর যেখানে মহীসোপান শুরু হবে, সেখানে মিয়ানমারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন ঢুকে গেছে। সামান্য জায়গা, ৪০-৫০ বর্গকিলোমিটার। আবার মিয়ানমার বলল, মহীসোপানের বিষয়টি এখন নিষ্পত্তি হবে না। কারণ বাংলাদেশ মাত্র ২০১১ সালে তাদের দাবি জাতিসংঘে পেশ করেছে। আদালতও বললেন, এখন এটার সমাধান দেওয়া যাবে না। আমরা রবীন্দ্রনাথের কবিতা উদ্ধৃত করে বললাম, বিধাতার রাত-দিন নেই, তার অনেক সময়। কিন্তু আমরা মরণশীল মানুষ। আমাদের তো কাজ শেষ করতে হবে। সমাধান একটা দিতেই হবে। তখন আদালত মহীসোপানের সীমানার দিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে নিষ্পত্তির পর সেটা চূড়ান্ত হবে। মিয়ানমারের ইকোনমিক জোনের যে অংশ আমাদের মহীসোপানে ঢুকে গেছে, সেখানকার তলদেশ হবে বাংলাদেশের আর পানি হবে মিয়ানমারের।
সমকাল : মিয়ানমার-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা অংশে এখন আমাদের কী করার আছে?
খুরশেদ আলম : জ্বালানি মন্ত্রণালয়, মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেটা ঠিক করবে। নৌ-টহল বৃদ্ধি করা হবে কি-না ঠিক করবে। সমুদ্রে শক্তি বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের দু’পাশেই শক্তিশালী দেশ রয়েছে। সম্পদ কীভাবে কাজে লাগাতে পারি, সে ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে। জ্বালানি ও মাছ ছাড়াও পলিমেটালিক সালফাইডসহ কপার, ম্যাগনেশিয়াম, নিকেল সংগ্রহ করা যাবে। দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান খনিজ পদার্থ আহরণ নিয়ে ভাবতে হবে। 
সমকাল : কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে মিয়ানমার এই রায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা না-ও করতে পারে? এটা কতটা সত্য?
খুরশেদ আলম : না, মিয়ানমার মেনে নিয়েছে। সরকারিভাবে জানিয়েছে। আসলে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো অপশন নেই। আপিলের সুযোগ নেই। আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক দেশকে আদালতে যেতে হয়েছে এবং রায় মেনে নিতে হয়েছে।
সমকাল : ভারতের সঙ্গে আমাদের বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে হেগের আদালতে। হামবুর্গের আদালতের সঙ্গে এর কি কোনো পার্থক্য রয়েছে।
খুরশেদ আলম : কিছু পার্থক্য রয়েছে। হামবুর্গে ২৩ জন বিচারক, হেগে ৫ জন। এখানে বিচারকদের বেতন-ভাতা দেয় জাতিসংঘ। সেখানে দিতে হবে বাদী ও বিবাদীকে। জুরিসডিকশনের কোনো পার্থক্য নেই। তবে হেগের বিচার প্রক্রিয়া হামবুর্গের চেয়ে দীর্ঘতর। ইটলসে ছয় মাস লাগলে, সেখানে এক বছর লেগে যায়। 
সমকাল : ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুতি কেমন?
খুরশেদ আলম : আমরা ইতিমধ্যে সব তথ্য-উপাত্ত, যুক্তি আদালতে পেশ করেছি। ভারত তাদের পাল্টা যুক্তি দেবে এ বছর। আমাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি নেই। তারপরও সমুদ্র আইন নিয়ে যারা চিন্তা-ভাবনা করেন, তাদের সবাইকে আমরা অনুরোধ জানাব আমাদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য। তাতে করে আমাদের আইনি লড়াই আরও শক্তিশালী হবে। 
সমকাল : হামবুর্গের আদালতের রায় কি হেগের আদালতে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে না? কারণ বিচার কাজের ক্ষেত্রে তো নজির অনুসন্ধান করা হয়।
খুরশেদ আলম : আমরা ইতিবাচক রায়ই আশা করি। এই আদালতেরই তিনজন বিচারক সেখানে রয়েছেন। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমাও ইকুইটির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
সমকাল : মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর ভারত তো এখন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে।
খুরশেদ আলম : এ ব্যাপারে সোমবার মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, আদালত থেকে মামলা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। তবে আলোচনার জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা।
সমকাল : আপনাকে এবং আপনার সহকর্মীদের অভিনন্দন জানাই। আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
খুরশেদ আলম : ধন্যবাদ, সমকালের জন্যও শুভেচ্ছা রইল।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

Burma, Bangladesh maritime dispute ends

Burma, Bangladesh maritime dispute ends

Print
(Mizzima) – The dispute over a resource-rich area of the sea claimed by both Burma and Bangladesh was settled by a United Nations court on Wednesday.

Transocean International’s semi-submersible drilling rig, the Actinia.

Transocean International’s semi-submersible drilling rig, the Actinia.

The International Tribunal for the Law of the Sea in German fixed new boundaries that were seen as a compromise to a decades-old dispute. 

“Both sides won something and lost something,” said the German judge on the panel, Ruediger Wolfrum, according to the German news agency, DPA.

A Bangladesh official said it was a “victory for both sides,” and Dhaka and Burma could now begin to exploit the area for gas and oil. The court’s ruling cannot be appealed.

Bangladesh Foreign Minister Dipu Moni said Bangladesh claimed 66,486 square miles, and received an 68,972 square mile area in the Bay of Bengal and they have got all they wanted. St Martin’s island is included in Bangladesh’s maritime boundary, and Burma’s must relinquish its claim to the island.

The decades-long dispute had led to tense stand-offs involving war ships in 2008 when Bangladesh accused Burma of exploring for gas in disputed waters.

Burma has discovered huge reserves of natural gas in the Bay of Bengal and has said it plans to explore further in the area. Dhaka hopes to resolve a similar maritime border dispute with India in 2014.

On November 2, 2008, the Bangladeshi government announced that the previous day its naval vessel the BNS Nirvoy detected the Burmese navy escorting four drilling ships and a tug pulling the 100-metre-long drill rig Transocean Legend in waters claimed by Dhaka. Dhaka’s accusation that Burma had violated its sovereign maritime territory was the first sign of a serious diplomatic spat that followed with a costly and heated naval stand off between two of the world’s poorest nations.  

Two days later, the Daewoo Corporation, Transocean and the Burmese regime withdrew their vessels.  It was reported that the Korean and Chinese governments had intervened to de-escalate the situation. China is set to be the destination of most of the gas Daewoo and its partners extract from off Burma’s Arakan coast.

A Daewoo International report issued in March 2010 revealed that the firm increased its stake in the contested block after its three partners pulled out. The report did not mention any exploration activity in the disputed block since the standoff in November 2008.

Burma was represented by Attorney General Dr. Tun Shin; Professor Alain Pellet; Sir Michael Wood; Professor Mathias Forteau; Daniel Muller; Coalter Lathrop; Hla Myo New (Deputy Director General, Consular and Legal Affairs Department, Ministry of Foreign Affairs, Burma); and Kyaw San (Deputy Director General, Attorney General’s Office of Burma). Bangladesh was represented by 10 representatives including Foreign Minister Dipu Moni.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

উন্মুক্ত হলো সমুদ্র সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার

উন্মুক্ত হলো সমুদ্র সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার নিজস্ব প্রতিবেদকহামবুর্গের আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে গতকাল বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হলো সমুদ্রসম্পদের এক বিশাল ভাণ্ডার। এর ফলে বাংলাদেশ সমুদ্রে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিবিড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের একচ্ছত্র অধিকার পেল। এর বাইরেও মহীসোপানের উল্লেখযোগ্য অংশে সম্পদ আহরণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো। মিয়ানমারের সঙ্গে পূর্বদিকের সীমানা বিরোধ মিটে যাওয়ায় বাংলাদেশ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারবে। এ ছাড়া অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
নৌবাহিনীতে কাজ করার সময় থেকেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন নিয়ে গবেষণা করেছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম। বর্তমানে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে আনক্লজ অনুবিভাগের দায়িত্বে আছেন। চূড়ান্ত রায় শোনার জন্য হামবুর্গ যাওয়ার আগে গত সপ্তাহে কালের কণ্ঠের কাছে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা আশা করছি ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সমাধান পাব। ভৌগোলিক কারণেই সমদূরত্বের তত্ত্ব আমাদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করে না। আমরা এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরোধ নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছি।’ আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের (বাংলাদেশের) ভৌগোলিক অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ১৯৬৭ সালে ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তি করেছে জার্মানি। তাহলে আমরা কেন পাব না?’
সমদূরত্ব নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমুদ্র-সীমানা মিটিয়েছে গিনি-গিনি বিসাউ, ডমিনিকা, ব্রুনাই-মালয়েশিয়াসহ আরো অনেক দেশ। তারা সমুদ্রের ভেতর ২০০ নটিক্যাল মাইলের অধিকার পেয়েছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, বাংলাদেশও তার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
গতকাল আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বাংলাদেশের পক্ষেই এসেছে। হামবুর্গ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যা চেয়েছিল তার চেয়েও বেশি পেয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে ন্যায্যতার ভিত্তিতে দাবি প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাভের ক্ষেত্রগুলো আগেই চিহ্নিত করে রেখেছিলেন খুরশেদ আলম। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা তীর থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইলের পরও মহীসোপানের আরো ২৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ দাবি নিয়েই হামবুর্গের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর ল অব দ্য সি’তে গেছে বাংলাদেশ। এ দাবি প্রতিষ্ঠিত হলে এক বিস্তৃত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এঙ্ক্লুসিভ ইকনোমিক জোন) ও মহীসোপানের (কন্টিনেন্টাল শেল্ফ) একচ্ছত্র অধিকার পাবে বাংলাদেশ। উন্মুক্ত হবে সমুদ্রসম্পদের এক বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার। তেল-গ্যাসসহ মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য বাংলাদেশ নিতে পারবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
খুরশেদ আলম জানান, বিপুল মৎস্যসম্পদ, তেল-গ্যাস ছাড়াও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে রয়েছে কোবাল্ট সালফাইড, নুডল্স, যা থেকে কোবাল্ট, নিকেল, ম্যাগনেসিয়াম, তামার মতো দামি খনিজ পদার্থ আহরণ করা সম্ভব। পাপুয়া নিউগিনিসহ বেশ কয়েকটি দেশে নুডল্স থেকে কিছু পরিমাণ স্বর্ণও পাওয়া যাচ্ছে। সমুদ্রসীমা নির্ধারিত না থাকায় বহুজাতিক খনি উন্নয়ন (মাইন ডেভেলপমেন্ট) কম্পানিগুলো অনুসন্ধানকাজে আগ্রহী হচ্ছে না। মিয়ানমারের সঙ্গে পূর্বদিকের সীমা নির্ধারিত হয়ে গেলে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। দুই বছর পর ভারতের সঙ্গে পশ্চিম দিকের সীমা ঠিক হয়ে গেলে বাংলাদেশ সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারবে। তখন বিদেশি কম্পানিগুলোও নির্দ্বিধায় এগিয়ে আসবে।
খুরশেদ আলম বলেন, সমুদ্রসীমা রক্ষা ও সম্পদ আহরণের জন্য বাংলাদেশে সমুদ্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন জরুরি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতেও ওশেনোলজি পড়ানো হয় না। ফলে আমাদের এখানে সমুদ্রবিদ্যায় কোনো লোকবল নেই। অথচ ভারতে অন্তত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়টি পড়ানো হয়।
তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমুদ্রবিজ্ঞানের চার বছর মেয়াদি কোর্স চালু করতে রাজি হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হওয়ার কথা। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশে সমুদ্রতত্ত্বের কিছু জনবল তৈরি হবে বলে আশা করছেন খুরশেদ আলম।
ভারত ও মিয়ানমারের দাবি, সমদূরত্বের ভিত্তিতে সীমা নির্ধারণ হোক। এ হিসাবে বাংলাদেশ পেত মাত্র ১৩০ নটিক্যাল মাইল। সমুদ্রে যে ২৮টি গ্যাস ব্লকের রূপরেখা রয়েছে, তার ১৭টিই দাবি করে মিয়নমার, ১০টির দাবি ভারতের। বাংলাদেশের হাতে থাকে কেবল একটি, যেখানে এখন কনোকো-ফিলিপ্স অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সীমানা নির্ধারণের আগে এ ধরনের গ্যাস ব্লকের পক্ষে দাবি জোরালো হয় না বলে জানিয়েছিলেন খুরশেদ আলম। মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশের দাবি জোরালো হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলোর তাগিদ না থাকায় সেই উদ্যোগ গত চার দশকেও সম্পন্ন হয়নি। এ নিস্পৃহতার সুযোগে প্রতিবেশী দেশগুলো আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছে। এতে ন্যায্য সমুদ্রসীমা থেকে বাংলাদেশের বঞ্চিত হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত বছর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে তার যৌক্তিক জলসীমার দাবি পেশ করেছে।
সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় সংসদে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোন্স অ্যাক্ট’ আইন পাস করেছিল তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকার। এ ধরনের আইনের কথা তখন ভারত বা মিয়ানমার চিন্তাও করেনি। দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছিল তখন থেকে। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী সরকার যে প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা নিয়ে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিল, পরবর্তী সরকারগুলো তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেনি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক আগে উদ্যোগ নিয়েও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে মিয়ানমার ও ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেকখানি এগিয়ে গেছে। তারা নিজেদের মধ্যেও আন্দামান সাগরে সীমা নির্ধারণের সমঝোতায় পেঁৗছেছে।
১৯৭৪-এর পর থেকে প্রায় দুই দশক পর্যন্ত সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। মাঝখানে ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ প্রণীত আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে স্বাক্ষর করেছিল বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী দেশে সেটিকে অনুস্বাক্ষর (রেটিফাই) করা দরকার থাকলেও দীর্ঘ ১৯ বছরে তা হয়নি। সে কাজটি করা হয়েছে ২০০১ সালে। এর ১০ বছরের মধ্যে মহীসোপানের দাবি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করার কথা। সময়সীমা ছিল ২০১১ সাল। তার আগে ভূতাত্তি্বক (সেইসমিক) ও বেথিমেট্রিক জরিপ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। ২০১০ সালে এ দুটি জরিপ শেষ করে সময়সীমা পার হওয়ার আট মাস আগেই বাংলাদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তার দাবি পেশ করেছে। খুরশেদ আলম মনে করেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিবেচনা করলে বাংলাদেশ সমুদ্রতীর থেকে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে ৪৬০ নটিক্যাল মাইল (৮৫২ কি. মি.) পর্যন্ত পাওয়ার দাবি রাখে। সমুদ্রের এ এলাকা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকেও আয়তনে বড়। এ দাবি প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসম্পদের অধিকার পাবে। পার্শ্ববর্তী দুটি দেশের (পূর্বে মিয়ানমার ও পশ্চিমে ভারত) সঙ্গে চার দশকেও সমুদ্রসীমা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশ সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাসসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছে না।


সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন, সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com

সুত্র

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত প্রবাসীরা

www.shokalerkhabor.com.jpg

ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতায় ফিরে আসছে দেশের পুঁজিবাজার। গত দেড় মাস ধরে বাজার ইতিবাচক। প্রায় প্রতিদিনই বাজারের সাধারণ সূচক বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপে বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাজারের এই আচরণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনোযোগ এখন দেশের পুঁজিবাজারের দিকে। তারা এখন বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশের পুঁজিবাজারে তাদের হাতে থাকা অলস অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন। বিডিনিউজ।ইউকে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ বেলাল আহমেদ জানান, ‘মানুষ এখন আগ্রহী। বাজারে বেশ কিছু উত্সাহব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আমি আশা করছি, একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা এবার পুঁজিবাজারে ঢুকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা বুঝতে পারছেন, এখনই বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময় এবং তারা ‘ভালো শেয়ার’ কম মূল্যে কিনতে চান। ‘যদিও গত কয়েক দিনে বাজার কিছু ভালো হয়েছে। কিন্তু এরপরও অনেক মৌলভিত্তিক শেয়ারের (ভালো শেয়ার) দাম এখনও বেশ নিচে। আগামীতে বাজার আরও ভালো হবে-এ প্রত্যাশায় প্রবাসীরা বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন’-যোগ করেন তিনি।সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন যুক্তরাজ্যের কারি লাইফ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে দেশের পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের (এনআরবি) বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সূচক পড়তে পড়তে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর সূচক ৩ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে নেমে এসেছিল। এরপর থেকে বাজার বাড়তে থাকে। গত আড়াই মাসে সেই সূচক ১ হাজার ৭৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে উঠেছে।একই সময়ে লেনদেন কমতে কমতে দু’শ’ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছিল। এখন হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে।এদিকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট এম রকিবুর রহমান প্রবাসী বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যে কোনো বিনিয়োগকারীর জন্য এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার উপযুক্ত সময়। আমরা প্রবাসীদের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই। তারা এগিয়ে এলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আগামীতে বাজার আরও ভালো হবে বলেও আশাবাদী তিনি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান বেলাল আহমেদ। তিনি বলেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের মতো ইউরোপের দেশগুলোতে অনেক বাংলাদেশি বাস করছেন। তাদের অনেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন।পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের সাম্প্রতিক নানা উদ্যোগ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইপিও’র ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কোটা এবং পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে সরকারের চেষ্টা-প্রবাসীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উত্সাহী করছে বলে জানান বেলাল আহমেদ। প্রবাসীরা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হন সেজন্য দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধানদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এই প্রবাসী বাঙালি। তিনি বলেন, তারা (ডিএসই ও সিএসই) প্রবাসীদের বিনিয়োগ চায়। কিন্তু দেশের বাইরে এজন্য তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই গতবারের মতো এবারও লন্ডনে তিন দিনব্যাপী পুঁজিবাজার মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বেলাল আহমেদ।এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রকিবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে যেসব খাত প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে, সেসব খাতকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাই এ ধরনের উদ্যোগকে আমি সমর্থন করি। তবে এ খাতকে যথাযথভাবে যেন তুলে ধরা হয় সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনাবাসী বাংলাদেশিরা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাই তাদের কাছে দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমি এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’লন্ডনে পুঁজিবাজার মেলাপ্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উত্সাহিত করতে আগামী ২৭ মে থেকে লন্ডনে তিনদিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হবে। যুক্তরাজ্যে কারি লাইফ ম্যাগাজিন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কারি লাইফ ইভেন্টস ওই মেলার আয়োজন করছে। লন্ডন মুসলিম সেন্টারে আয়োজিত এই মেলা শেষ হবে ২৯ মে।মেলার আয়োজক সৈয়দ বেলাল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ফেয়ার-২০১২’ শিরোনামে দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করবে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুফল নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের বাইরে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের পুঁজিবাজার মেলা। মেলা নিয়ে ভালো সাড়া মিলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেলার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই নিবন্ধন করেছে।’ বেলাল আহমেদ জানান, এপ্রিলে তাদের এ মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আগ্রহী সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তা মে মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। অনলাইন ট্রেডিং সুবিধা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডিএসই ও সিএসইর একদল নির্বাচিত স্টক ব্রোকারসকে মেলায় অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।বেলাল আহমেদ বলেন, তিন দিনের এই মেলায় ১০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তাদের অনেকেই বিও হিসাব খুলবেন। এই মেলা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস-বলেন তিনি।

সুত্র

 

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণে ২২৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার

দেশীয় অর্থায়নে ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২৯৭১টি বাসস্থান নির্মাণ করছে সরকার। সারাদেশের ৪৮৪টি উপজেলায় এসব ভবন নির্মাণ করা হবে। ২২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা প্রাক্বলন ব্যয়ের প্রকল্পটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এটি বাস্তবায়ন হলে আর্থ-সামাজিকভাবে চরম সংকটাপন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যাবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে সবাইকে স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ’ নামের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে তিন বছর। যা চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০১৫ সালের জুন মাসে শেষ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।তথ্যানুসারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মুন্নত রেখে আর্থ-সামাজিকভাবে চরম সংকটাপন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৪টি উপজেলায় ওই ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে। যার প্রতিটির আয়তন হবে ৫০০ বর্গফুট। এ ছাড়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ এক হাজার জন মুক্তিযোদ্ধাকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ দেয়ার কর্মসূচি। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী অংশে সমাজের অনগ্রসর ও অবহেলিত মানুষের জন্য আবাসিক সুবিধা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। তাই এ প্রকল্পটি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার নীতি ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের ওপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলেও উল্লেখ করা হয়।জানা গেছে, প্রকল্পটি প্রণয়নপূর্বক অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বরে এটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন (পিইপি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার ৯৭১টি বাসভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া এক হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বাসস্থান নির্মাণের মাধ্যমে অনগ্রসর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সমস্যা দূর হবে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। সূত্র জানায়, এটি বাস্তবায়নে বছরভিত্তিক অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭৮ কোটি ২৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ও পটভূমি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হওয়া সত্ত্বেও অনেক মুক্তিযোদ্ধার মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। এ ছাড়া অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে জরাজীর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কোন রকমে বসবাস করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত তাদের অনেক দুর্ভোগ উপেক্ষা করে কোন রকমে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এমনকি অনেকের পানীয় জলের সুব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত স্যানিটেশনেরও ব্যবস্থা নেই। তাদের এ করুণ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যেই এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে।ৃ

সুত্র

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত প্রবাসীরা

NewImage

ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতায় ফিরে আসছে দেশের পুঁজিবাজার। গত দেড় মাস ধরে বাজার ইতিবাচক।

প্রায় প্রতিদিনই বাজারের সাধারণ সূচক বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপে বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারের এ আচরণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনোযোগ এখন দেশের পুঁজিবাজারের দিকে। তারা এখন বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশের পুঁজিবাজারে তাদের হাতে থাকা অলস অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

ইউকে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ বেলাল আহমেদ বলেছেন, “মানুষ এখন আগ্রহী। বাজারে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আমি আশা করছি, একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা এবার পুঁজিবাজারে ঢুকবে।”

তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা বুঝতে পারছে যে, এখনই বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময় এবং তারা ‘ভালো শেয়ার’ কম মূল্যে কিনতে চায়।”

“যদিও গত কয়েক দিনে বাজার কিছু ভালো হয়েছে। কিন্তু এরপরও অনেক মৌলভিত্তিক শেয়ারের (ভালো শেয়ার) দাম এখনও বেশ নিচে। আগামীতে বাজার আরো ভালো হবে- এ প্রত্যাশায় প্রবাসীরা বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে,” যোগ করেন তিনি।

স¤প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন যুক্তরাজ্যের কারি লাইফ গ্র“পের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে দেশের পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের (এনআরবি) বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়ে এ সব কথা বলেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সূচক পড়তে পড়তে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর সূচক ৩,৬১৬ পয়েন্টে নেমে এসেছিল। এর পর থেকে বাজার বাড়তে থাকে। গত আড়াই মাসে সেই সূচক ১,৭৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৩৬৭ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে লেনদেন কমতে কমতে দুইশ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছিল। এখন হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে। 
‘প্রবাসীদের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই’

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট এম রকিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “যে কোনো বিনিয়োগকারীর জন্য এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার উপযুক্ত সময়। আমরা প্রবাসীদের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই। তারা এগিয়ে এলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।”

আগামীতে বাজার আরো ভালো হবে বলেও আশাবাদী তিনি। 
এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানান বেলাল আহমেদ।

তিনি বলেন, “ইতালী, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের মতো ইউরোপের দেশগুলোতে অনেক বাংলাদেশি বাস করছে। তাদের অনেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন।”

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের সাম্প্রতিক নানা উদ্যোগ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইপিও’র ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কোটা এবং পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে সরকারের প্রচেষ্টা- প্রবাসীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহী করছে বলে জানান বেলাল আহমেদ। 
প্রবাসীরা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরো আগ্রহী হয় সেজন্য দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধানদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এই প্রবাসী বাঙালি। 
তিনি বলেন, “তারা (ডিএসই ও সিএসই) প্রবাসীদের বিনিয়োগ চায়। কিন্তু দেশের বাইরে এজন্য তাদের কোনো উদ্যোগ নেই।” 
এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই গতবারের মতো এবারও লন্ডনে তিন দিনব্যাপী পুঁজিবাজার মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বেলাল আহমেদ। 
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রকিবুর রহমান বলেন, “আমাদের দেশে যেসব খাত প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে, সেসব খাতকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাই এ ধরণের উদ্যোগকে আমি সমর্থন করি। তবে এ খাতকে যথাথভাবে যেন তুলে ধরা হয় সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে।” 
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনাবাসী বাংলাদেশীরা সু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই তাদের কাছে দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমি এ ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।” 
লন্ডনে পুঁজিবাজার মেলা 
প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আগামী ২৭ মে থেকে লন্ডনে তিন দিনব্যাপী একটি মেলার আয়োজন করা হবে। 
যুক্তরাজ্যে কারি লাইফ ম্যাগাজিন গ্র“পের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কারি লাইফ ইভেন্টস ওই মেলার আয়োজন করছে। 
লন্ডন মুসলিম সেন্টারে আয়োজিত এ মেলা শেষ হবে ২৯ মে। 
মেলার আয়োজক সৈয়দ বেলাল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ফেয়ার-২০১২’ শিরোনামে দ্বিতীয়বারের মতো এ মেলার আয়োজন করবে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। 
“বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুফল নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের বাইরে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের পুঁজিবাজার মেলা।” 
মেলা নিয়ে ভালো সাড়া মিলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “মেলার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই নিবন্ধন করেছে।”

বেলাল জানান, এপ্রিলে তাদের এ মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আগ্রহী সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তা মে মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। 
অনলাইন ট্রেডিং সুবিধা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডিএসই ও সিএসই’র একদল নির্বাচিত স্টক ব্রোকারসকে মেলায় অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 
বেলাল আহমেদ বলেন, তিন দিনের এ মেলায় ১০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তাদের অনেকেই বিও হিসাব খুলবেন। 
“এই মেলা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস,” বলেন তিনি। 
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/এএইচ/পিডি/১৩০৩ ঘ.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

রিজার্ভ আবার ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ঢাকা, এপ্রিল ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

NewImage

রেমিটেন্স বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা।

গভর্নর আতিউর রহমান সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঙ্গলবার আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার যোগ হলে রিজার্ভ আরো বাড়বে।” 
দেড় বছর ঝুলে থাকার পর সংস্কারের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে একশ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, “মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বৃদ্ধির কারণেই রিজার্ভ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা আশা করছি আগামীতে রিজার্ভ আরো বাড়বে।” 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। সোমবার তা বেড়ে ১০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। 
চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৯ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। 
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ৭৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে। 
২০১০-১১ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ।

গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ৯০ কোটি ডলার আমদানি দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে নেমে অসে। 
এরপর রেমিটেন্স বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ বেড়ে সোমবার ১০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। 
এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে রিজার্ভ চার বার ১১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছিল। কিন্তু আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পর তা কমে আসে। 
ওই অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল প্রায় ৪২ শতাংশ। 
গত অর্থবছরের রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করলেও চলতি অর্থবছরে বেশির ভাগ সময় রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে রিজার্ভ এক পর্যায়ে ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। 
১১ এপ্রিল আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদ ৬৩ দশমিক ৯৯ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলারের (৯৮ দশমিক৭০ কোটি মার্কিন ডলার) ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের অর্থ তিন বছরের মধ্যে কয়েক ধাপে ছাড় করা হবে। যার প্রথম কিস্তি ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার মঙ্গলবার বাংলাদেশ পাবে। 
লেনদেন ভারসাম্য নিয়ে সঙ্কটে থাকা বাংলাদেশ সরকার এক বছরের বেশি সময় ধরে আইএমএফের এই ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। 
সুত্র ঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/পিডি/১৯৪৬ ঘ.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

অপুষ্টি: জাতিসংঘের লড়াইয়ে নেতৃত্বে হাসিনা

 

NewImage

অপুষ্টি: জাতিসংঘের লড়াইয়ে নেতৃত্বে হাসিনা

Thu, Apr 19th, 2012 11:31 pm BdST

 

ঢাকা, এপ্রিল ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিশ্বব্যাপী মাতৃ ও শিশু অপুষ্টিবিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মনোনীত করেছে জাতিসংঘ।

স্কেলিং আপ নিউট্রিশন (এসইউএন) মুভমেন্ট কর্মসূচির জন্য কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে ২৬ বিশ্ব নেতাকে নিয়ে একটি লিড গ্র“প করেছে জাতিসংঘ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার বলা হয়, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্যের উন্নয়নে শেখ হাসিনার ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ গ্র“পের সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে ফজলে হাসান আবেদকেও এই গ্র“পে রাখা হয়েছে।

এসইউএন মুভমেন্টের আওতায় বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও অপুষ্টিবিরোধী লড়াইয়ে থাকা শতাধিক সংগঠন ও সরকার এক জায়গায় এসেছে।

বর্তমানে বিশ্বের একশ’ কোটির বেশি মানুষ ক্ষুধা ও অপুষ্টির সঙ্গে লড়ছে।

বিশ্বব্যাপী প্রান্তিক ও সবচেয়ে অসহায় শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে অন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কাজ করবেন শেখ হাসিনা ও ২৬ বিশ্ব নেতা।

শেখ হাসিনার সঙ্গে লিড গ্র“পে অন্য বিশ্ব নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট আর্মান্ডো এম-লিও গুয়েবুজা, তাঞ্জানিয়ার প্রেসিডেন্ট জাকাইয়া ম্রিশো কিকওয়েটে, নামিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাহাস আঙ্গুলা ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী বাবু রাম ভট্টরাই প্রমুখ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/এএইচ/পিডি/২৩২৮ ঘ.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

পরোপোকারী ইমাম

বছরের পর বছর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। জনদুর্ভোগ খুঁজে বের করে আর ১০ জনের সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন সমাধানে। বগুড়ার জাহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে বানিয়েছেন সাঁকো, ঈদগাহ, লাগিয়েছেন ৩০ হাজার ফলদ বৃক্ষ ।

বাড়ির পাশেই দিগদাইড় বিল। বিল পেরিয়ে ওপাশে গঞ্জের বাজারে প্রতিদিন নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় শত শত মানুষকে। ঘাটের ছোট্ট ডিঙি নৌকাটির খোঁজ থাকে না অনেক সময়ই। সারা বছর গ্রামবাসী দুর্ভোগ পোহালেও মাথা ঘামায় না কেউ। এ অবস্থায় এগিয়ে এলেন জাহিদুল ইসলাম। নিজের ঝাঁড় এবং আশপাশের মানুষের কাছ থেকে চেয়ে নিলেন বাঁশ। ছোট ভাই জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করলেন প্রায় ২৫ ফুট লম্বা সাঁকো। স্বস্তির নিঃশ্ব্বাস ফেলল উভয় পারের মানুষ।

কিছুদিন পর গ্রামের যুবকদের নিয়ে হাড়ভাঙা শ্রমে পাশের পাঠানপাড়া গ্রামে বিল পারাপারে বানিয়ে ফেললেন প্রায় ৬০ ফুট লম্বা আরেকটি বাঁশের সাঁকো। আশপাশের মানুষের চোখমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ দেখে জাহিদুলকে পেয়ে বসল উপকারের নেশায়।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের সোনাতলা উপজেলার নিভৃতপল্লী দিগদাইড় গ্রামে তাঁর বাস। ৪৫ বছর বয়সী জাহিদুল ইসলাম পেশায় মসজিদের ইমাম। তিন দশক ধরে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। গ্রামে ঢুকে প্রথমেই বের করছেন জনদুর্ভোগের কারণ। তারপর সে সমস্যা সমাধানে সংঘবদ্ধ করছেন মানুষকে। যমুনাপারের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি আর গাবতলীর অবহেলিত গ্রামগুলোতে নিজ উদ্যোগে, স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করেছেন প্রায় ৫০০ সাঁকো। সম্প্রতি গাবতলী উপজেলার কাঁকড়া বিলের ওপর প্রায় ৭০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। তিন মাস ধরে চলেছে নির্মাণকাজ। সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার বাঁশ ও ১২ মণ লোহার পেরেক। সাঁকোটি বানানো শেষ হলে বগুড়ার নেপালতলী ইউনিয়নের শেখহাটি, জাতহলিদা, নারচী, বাঁশগাড়ি, পাড়কাঁকড়া, কুড়িপাড়া, ময়নাতলা, নিচকাঁকড়া, কাজলাপাড়া, ধলিরচর, চকরাধিকা, কদমতলী, সুখানপুকুরের লাখো মানুষের দুঃখ লাঘব হবে।

কেবল সাঁকো বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই জাহিদুলের কার্যক্রম। দিগদাইড় গ্রামের পাশেই পাঠানপাড়ায় ৩০ ফুট গভীর গর্ত পূরণ করে তৈরি করেছেন ঈদগাহ। বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি এনে ভিজিয়ে দেন রাস্তা। কাদায় পিচ্ছিল হয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়ে চলাচল। যেখানেই এসব চোখে পড়েছে সেখানেই পাইপ লাগিয়ে পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সুখানপুকুর সৈয়দ আহম্মদ কলেজ থেকে পাঠানপাড়া পর্যন্ত সাত কিলোমিটার জুড়ে লাগিয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার বনজ-ফলদ বৃক্ষ। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেছেন তালের আঁটি। তাদের নিয়েই সেসব আঁটি লাগিয়েছেন রাস্তার ধারে। পরিকল্পনা করছেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে সারিয়াকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় তালগাছ লাগানোর।

কেন এই নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো_প্রশ্নের জবাবে শান্ত, সাদাসিধে মানুষটির মুখে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল_’মানুষকে ভালোবাসার এসব দৃষ্টান্ত পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর বাংলাদেশ তৈরিতে উদ্বুব্ধ করবে।’ ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘যদি আরো কিছুদিন বাঁচি আর আমাকে গ্রামের মানুষ সাহায্য-সহযোগিতা করেন, তাহলে এলাকায় পাবলিক লাইব্রেরি, এতিমখানা, গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠা করব।’


এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »