সফল বাংলাদেশ

সফল বাংলাদেশ: সব সফলতার খবর আলোচনা হোক গর্বের সাথে

অ্যাকাউন্ট খোলার হারে দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ দ্বিতীয়

চালু করুন এপ্রিল 20, 2012

NewImage
জাকির হোসেন
আর্থিক খাতের সেবায় মানুষের অন্তর্ভুক্তিকরণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। বাংলাদেশের পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যে শতকরা ৪০ জনের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট বা হিসাব রয়েছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশের তুলনায় শুধু এগিয়ে আছে শ্রীলংকা। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও আফগানিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। ‘আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তিকরণ বা ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’-এর ওপর বিশ্বব্যাংকের এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৭৫ ভাগ দরিদ্র মানুষের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। এদের আয় দৈনিক ২ ডলারের কম। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকার কারণ শুধু দারিদ্র্য নয়; ব্যয়, দূরত্ব এবং অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াগত জটিলতাও এত বেশি পরিমাণ লোককে ব্যাংকিং সেবার বাইরে রেখেছে। ২০১১ সালভিত্তিক এই জরিপে বিশ্বের ১৪৮টি দেশের দেড় লাখ লোকের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, পৃথিবীতে ৫০ শতাংশ বয়স্ক লোকের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। তবে ২৫০ কোটির বেশি লোক এখনও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার বাইরে। জরিপের তথ্য ব্যবহার করে ‘গ্গ্নোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডাটাবেজ বা গ্গ্নোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনডেক্স’ নামে বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্ট গতকাল প্রকাশিত হয়েছে। জরিপের ফলাফলে ব্যাংক হিসাব না থাকার সঙ্গে সমাজে আয় বৈষম্যের একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা পিছিয়ে আছে। জরিপে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলতে ব্যাংক, ক্রেডিট ইউনিয়ন, সমবায়, ডাকঘর এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। 
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট এ জোয়েলিক বলেছেন, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সেবার আওতায় আনতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং দরিদ্র লোকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর্থিক সেবার ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে একজন মানুষের সঞ্চয়ে সহায়তা হতে পারে অথবা একটি ছোট ব্যবসার পত্তন হতে পারে, যার মাধ্যমে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 
রিপোর্টের তথ্যমতে, বাংলাদেশে গত বছর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সঞ্চয় করেছেন ১৭ শতাংশ লোক। শ্রীলংকার ক্ষেত্রে এই হার ২৮ শতাংশ, ভারতের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ লোক প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন। শ্রীলংকার ক্ষেত্রে এই হার ১৮ শতাংশ, ভারতের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ, নেপালের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ।
মতামত জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত পরিকল্পনায় আর্থিক সেবায় অধিকতর মানুষকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অন্যতম অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি কৃষক ও দরিদ্র লোক ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এগুলোর পুরোটাই বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের হার আরও বেশি হতো। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে সর্বশেষ সংযোজন মোবাইল ব্যাংকিং। তিনি আশা করেন, অচিরেই বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়াতে এক নম্বর অবস্থানে যেতে পারবে। 
বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তিতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গড়ে ৩৭ শতাংশ নারীর অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৬ শতাংশ। দরিদ্র নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৮ শতাংশ। নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্য সবচাইতে বেশি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। দক্ষিণ এশিয়াতে গড়ে ২৫ শতাংশ নারীর অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৪১ শতাংশ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: