সফল বাংলাদেশ

সফল বাংলাদেশ: সব সফলতার খবর আলোচনা হোক গর্বের সাথে

বাংলাদেশের অর্থনীতি ভাল করছে ॥ পঙ্কজ শরণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি খুবই ভাল করছে। আর এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে সেটা শুধু নিজেদের উন্নয়ন হবে তা নয়, বরং গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে এ দেশের সব ধরনের উন্নয়নে পাশে থাকতে চায়। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জ পরিদর্শন শেষে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ডিএসই’র বিভিন্ন বিভাগ এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পঙ্কজ শরণ আরও বলেন, বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জ ডায়নামিক পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক ভাল। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শেয়ার বাজার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি ডিএসই’র নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, একটি সুস্থ, স্থিতিশীল পুঁজিবাজার যে কোন দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সংস্কার থেকে ডিএসই শিক্ষা নিতে পারে। এতে একই ধরনের ভুল হবে না। এ ক্ষেত্রে ভারত ডিএসইকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করবে। ডিএসই’র সদস্যদের ভারতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের জন্য ভারত তার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসাবাণিজ্য আরও বেশি সম্প্রসারিত হবে।
ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, ভারতের হাইকমিশনার পরিদর্শন শেষে ডিএসইর কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। তিনি আমাদের আইটি বিভাগ ঘুরে দেখেছেন। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের উন্নয়নে তিনি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদেরও প্রশংসা করেছেন। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় আন্তরিক। এজন্য এমএসএ প্লাস সফটওয়্যার সংযোজন করেছি, আইটি বিভাগের উন্নয়ন করেছি। স্টক এক্সচেঞ্জের সংস্কারের জন্য ভারতীয় হাইকমিশনার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। রকিবুর রহমান আরও বলেন, ভারতের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই সব সংস্কার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও উন্নয়ন করতে হবে। ভারতের অর্থমন্ত্রী সরকারী শেয়ারগুলো অফলোড করেছে তাদের দেশের স্বার্থে। পঙ্কজ শরণ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও সরকারী কোম্পানির শেয়ার অফলোডের পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময় ডিএসইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী, সহ-সভাপতি মোঃ শাজাহান, পরিচালক খাজা গোলাম রসুল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ভারতীয় হাইকমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

link

Advertisements
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের হার বেড়েছে ১১.৪৮ শতাংশ

NewImageNewImage

 নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১শ’ ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাসের চেয়ে ১১.৪৮ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৫৫ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

ধারণা করা হচ্ছে, রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি পরিমাণে ফরেন রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। যাতে দেশে থাকা পরিবার-পরিজনরা সুন্দর ভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন। 

এছাড়া লন্ডনে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক গেমসকে কেন্দ্র করে লন্ডনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বাড়তি আয়ের উল্লেখেযোগ্য পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠানোয় এর পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

আমরা এখ্ন আমাদের নিজ ডমেইনে (www.bdsuccess.org)

আনন্দের সাথে জানাচ্ছি

 

আমরা আমাদের নিজ ডমেইন

http://www.bdsuccess.org

থেকে সকল কার্জক্রম পরিচালনা করছি।


সাইটির ব্যাপারে আপনাদের পরামর্শ ও সার্বিক সায়তা কামনা করছি।

Apple touch icon

সাইটিতে যেতে উপরের লোগোটিতে ক্লিক করুন

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

চার জাতির গ্যাস পাইপলাইনে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

NewImage

মানবজমিন ডেস্ক: তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তান ও ভারত গ্যাস কেনাবেচা সংক্রান্ত চুক্তি সই করার পর এবার বাংলাদেশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর দ্বারস্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ৪ জাতির ওই গ্যাস পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে এডিবি’র কাছে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন

পাকিস্তান টুডে। ‘বাংলাদেশ ওয়ান্টস টু ফিট ইন্টু দ্য পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- কি পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এর জবাবে তিনি বলেছেন, তাদের চাহিদা অল্প। যেহেতু আফগানিস্তান তাদের চাহিদার অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তা বাংলাদেশকে দেয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এই পাইপলাইনের কাজ ৪ জাতির মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। বাংলাদেশ এতে যুক্ত হতে পারে তার পরে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে একক উদ্যোগে। ইরান ও পাকিস্তানের (আই-পি) গ্যাস পাইপলাইন সম্পন্ন হয়েছে যৌথ উদ্যোগে। কিন্তু চার জাতির এ প্রকল্প সেভাবে হবে না। ১৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের নির্মাতা উদ্যোক্তা এরই মধ্যে খোঁজা শুরু হয়েছে। এতে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ যদি এতে যুক্ত হয় তাহলে পাইপলাইন বিস্তৃত করে ২৫০০ কিলোমিটার করা হবে। এ পাইপলাইনে এরই মধ্যে ৭ হাজার কিলোমিটার ব্যবহার করে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। চূড়ান্তভাবে মূল উদ্যোক্তা নির্বাচন করার পর এ প্রকল্পের প্রকৌশলগত ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে হবে ২০১৭ সালের মধ্যে। আইপি গ্যাসের দাম নিয়ে দর কষাকষি প্রসঙ্গে সূত্র বলেছে, এ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। কারণ ইরানের গ্যাসের চেয়ে তুর্কমেনিস্তানে গ্যাসের দাম কম। পাকিস্তান যদি অন্য কোন উৎস থেকে কম দামে গ্যাস কিনতে পারে সেক্ষেত্রে আইপি চুক্তিতে গ্যাসের দাম নিয়ে সমঝোতার একটি অংশ রাখা হয়েছে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

মধুপুরে পাম্প টিউবওয়েলের উদ্ভাবক তারিকুল

ভোরের কাগজ / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য : ২৭/০৫/২০১২অর্থ শিল্প বাণিজ্য ডেস্ক : এক সময়ের দিনমজুর হতদরিদ্র ও বেকার তারিকুল ইসলামের জীবনচিত্র এখন পাল্টে গেছে। দেশের মধ্যে প্রথম ৩ ধরনের আধুনিক পাম্প টিউবয়েল উদ্ভাবন করে খুঁজে পেয়েছেন সুখের ঠিকানা।
প্রথমে তিনি শুরু করেন শ্যালো মেশিনের মেকানিক্যালের কাজ। প্রায় ৫ বছর মেশিনের কাজ করে এলাকাজুড়ে সুনাম অর্জন করেন শ্যালো মেকার হিসেবে। এ কাজ করার পাশাপাশি তারেক চিন্তা করতে থাকেন নতুন কিছু তৈরি করার। তারপর ১৯৮৮ সালে বাড়িতে বসেই শুরু করেন পুরোনো শ্যালো মেশিনের যন্ত্রপাতির ক্রয় করা। শ্যালো মেশিনের পুরোনো লায়নার, রিক্সা-ভ্যানের পুরোনো এক্সএল, বেয়ারিং, পুরোনো লোহার পাইপ, মেশিনের ওয়ারস্যালন প্রভৃতি সংগ্রহ করেন। লায়নার দিয়ে টিউবয়েলের বডি, রিকশার এক্সেল দিয়ে হাতল, পাইপ দিয়ে টিউবয়েলের গোড়ার অংশ এয়ারগ্যালন দিয়ে উপরের অংশ তৈরি করে ঝালাই দিয়ে বেয়ারিং লাগিয়ে তৈরি করেন টিউবয়েল। খবর বাসসের। প্রথমে নিজের বাড়িতে লাগান নতুন উদ্ভাবিত টিউবয়েল। তার টিউবয়েলের নাম রাখেন ‘তারেক পাম্প’। তারপর ২০০২ সালে তার নিজ গ্রাম ভবানীটেকি চৌরাস্তা মোড়ে খুলে বসেন ছোট আকারের ওয়ার্কশপ।
যে এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই সে এলাকার বিল্ডিংয়ের ছাদের ট্যাংকিতে পানি উঠানোর জন্য তৈরি করেন ‘প্রেসার পাম্প টিউবয়েল’। যতো বেশি প্রেসার দিয়ে টিউবয়েলটি চাপা হবে ততো বেশি ওপরে পানি উঠবে। টিউবয়েলের মুখে রাবারের পাইপ লাগিয়ে হাতলে প্রেসার দিতে থাকলে ১/২শ’ ফুট ওপরে পানি ওঠানো সম্ভব বলে তারেক জানান। এ তিনটি টিউবয়েলেই ১শ ফুট গভীর থেকে পানি ওঠানো যায়। স্থান উঁচু হলেও কোনো সমস্যা নেই। তারেকের এ তিনটি পাম্প টিউবয়েল তৈরির ওয়ার্কশপের নাম দিয়েছেন ‘হাসান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’। তার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে ২ জন কর্মচারী মাসিক বেতন হিসেবে কাজ করছে। প্রথমে এলাকায় পাম্প টিউবয়েলগুলো বিক্রি হলেও এখন আশপাশের জেলাগুলোতেও বাড়ছে তারেকের টিউবয়েলের চাহিদা।
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর শহর থেকে ১০ কি:মি: উত্তরে অরণখোলা ইউনিয়নের ভনানীটেকি গ্রামে ১৯৭৫ সালে তারেক জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুস ছামাদ। মায়ের নাম জহুরা বেগম। তারেক জানান, ‘সাধ আছে, সাধ্যের অভাব। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে টিউবয়েল তৈরির উপকরণ ক্রয় করতে পারছি না। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি আমার পাম্পগুলো একটু বেশি পরিমাণে বিক্রি করতে পারতাম তাহলে আমার এগিয়ে যেতে সহজ হতো।’ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে তার তৈরি টিউবয়েলগুলো নেয়ার দাবি জানান তিনি।
গত ২০১০ সালের মধুপুর কৃষি মেলায় খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ‘ডায়াবেটিক পাম্প টিউবয়েল’ দেখে প্রশংসা করেন। তারেক জানান, ‘আমি যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়ার্কশপে গিয়ে কাজ করি, ঝালাই মেশিন ও হাতুড়ের আঘাতে তৈরি পাম্প দেখে আমার খুব ভালো লাগে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

জাতিসংঘের বিশেষ শিক্ষা প্রবর্তনের সদস্য হল বাংলাদেশ


NewImage

জাতিসংঘের বিশেষ শিক্ষা প্রবর্তনের সদস্য হয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিশ্বের ১০টি উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের সরকার প্রধানকে নিয়ে বিশেষ শিক্ষা প্রবর্তন চালু করছেন। শিক্ষাখাতে বিপুল সাফল্য অর্জিত হওয়ায় বাংলাদেশ এর সদস্যপদ লাভ করলো। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সদস্যপদ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন। নিউইয়র্কে   জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সফররত শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ড. আশা রোজ মিগিরোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তার অফিসে মিলিত হন। সাক্ষাত্কালে ড. আশা রোজ মিগিরো বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশের শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও সংস্কার বিষয়ে ডেপুটি সেক্রেটারী জেনারেলকে অবহিত করেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে বাংলাদেশের ছাত্রী বৃত্তির সুফল হিসাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্জন বিষয়ে আলোকপাত করেন। শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্বল বিষয়গুলো যেমন কোয়ালিটি অব এডুকেশনের উন্নয়ন এবং ঝরে পড়ার হার উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ২০১৫ সালের সহস াব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ছাত্র-ছাত্রীদের জেন্ডার পেরিটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ছাত্রীদের ভর্তির সংখ্যা অধিকতর হয়েছে। ২০১৫ সালের সহস াব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ক্ষেত্রে সাফল্য ৯৯% এর অধিক অর্জিত হয়েছে। ১ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এ বছর ২ কোটি ৩২ লাখ বই বিনামূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আগামী শিক্ষা বছরে তা বাড়িয়ে ২ কোটি ৭০ লাখ টেক্সট বুক বিতরণ করা হবে।

ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জাতিসংঘের পিস কিপিং-এ বাংলাদেশিদের প্রশংসা করেন। শিক্ষামন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক প্রফেশনাল ও মেধাবী রয়েছেন যারা জাতিসংঘের অন্যসব দপ্তরেও পারদর্শিতার সঙ্গে সেবাদান করতে পারেন। সাক্ষাত্কালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং মিশনের ইকোনোমিক মিনিস্টার মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সুত্র

NewImage

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১২

কূটনৈতিক রিপোর্টার: সবার জন্য টেকসই জ্বালানি-শীর্ষক জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ফর অল’ ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র উপদেষ্টা লুইস গোমেজ গতকাল সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। সাক্ষাৎকালে বান কি মুনের উদ্যোগ সম্পর্কে তার একটি লিখিত বার্তাও হস্তান্তর করা হয়। ওই বার্তায় পৃথিবীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তার এ উদ্যোগ বলে জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। সবার জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করা, বিশ্বের জ্বালানি দক্ষতা দ্বিগুণ করা এবং চাহিদার অর্ধেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আহরণ করার জন্য তার এ উদ্যোগে রাষ্ট্রসমূহ আশাব্যঞ্জক সাড়া দেবে বলেও আশা করেন বান কি মুন। বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান পরিবেশমন্ত্রী। বিশ্বব্যাপী অপরিকল্পিত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবী ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশসমূহে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে একদিকে যেমন শক্তির অপচয় হচ্ছে তেমনি উত্তপ্ত করছে সৌরমণ্ডলকে। এতে প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি ত্বরান্বিত হচ্ছে। এর শিকার হচ্ছে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মোট  জ্বালানির ৭ থেকে ৮ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আহরণ করছে। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এর হার আরও ১০-২০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য কাজ চলছে। আগামী দিনের সব উন্নয়নের চালিকাশক্তি হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের এ উদ্যোগে ১১৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী জাতিসংঘ মহাসচিব। নতুন প্রজন্মকে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলেও আশা করেন তিনি।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানী চুক্তি

গ্যাযপ্রম রাশিয়ার বৃহত্তম জ্বালানী কোম্পানী

বাংলাদেশের কয়েকটি গ্যাস ক্ষেত্রে কূপ খননের লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান গ্যাযপ্রম বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় প্রায় বিশ কোটি মার্কিন ডলারের এক চুক্তি সই করেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জ্বালানী কোম্পানী গ্যাযপ্রম এই প্রথম বাংলাদেশে জ্বালানী খাতে কাজ করার জন্য একটি চুক্তি করলো।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় জ্বালানী সংস্থা পেট্রোবাংলার তিনটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেড এবং জ্বালানী অনুসন্ধান এবং উত্তোলনকারী সংস্থা বাপেক্সের সাথে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করে গ্যাযপ্রম।

চুক্তির আওতায় গ্যাযপ্রম মোট ৬ টি গ্যাসক্ষেত্রে ১০ টি কূপ খনন করবে ।

বাংলাদেশের পক্ষে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং গ্যাযপ্রমের পক্ষে সংস্থাটির উপ-মহা ব্যবস্থাপক ইয়ুরি স্কক চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।

নতুন সহযোগিতার শুরু

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর রুশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলেও দীর্ঘদিন জ্বালানী ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাথে কোন চুক্তি ছিল না।

রাশিয়ার সঙ্গে এটি সহযোগিতার শুরু এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলবে

হোসেন মনসুর, চেয়ারম্যান, পেট্রোবাংলা

“শুধুমাত্র দশটি কূপ খনন করেই শেষ নয়। তারা এখানে তাদের জ্বালানী বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষনের জন্য একটি ইনস্টিটিউট করবে। সেজন্যে কিছুদিনের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এটি সহযোগিতার শুরু এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলবে।”

চুক্তি অনুযায়ী, কূপ খননের জন্য এলসি খোলার ২০ মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ করা হবে।

গ্যাযপ্রমের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা এবং অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশে গত প্রায় আড়াই বছরে তেরটি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে এবং এখন আরো দশটি কূপ খনন করা হলে গ্যাসের উৎপাদন আরো অনেক বাড়বে বলে তারা আশা করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মি. স্কক ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গ্যাযপ্রমের কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মি. স্কক বলেন, “আমরা আশা করি, বাংলাদেশে পেট্রোবাংলার সাথে গ্যাস কূপ খননের এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি শুরু। বাংলাদেশের জ্বালানী পেট্রোবাংলা সাথে এই অংশীদারিত্ব থেকে আমরা সিসমিক সার্ভে এবং স্থলে ও সমুদ্রে কূপ খননসহ পূর্নমাত্রায় জ্বালানী অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কাজ করার জন্য প্রস্তুত। এটি শুধু বাংলাদেশের হাইড্রোকার্বন উৎপাদনই বাড়াবে না, এটি বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।”

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মি. মনসুর বলেন, গ্যাযপ্রমের সাথে এই চুক্তিটি একটি বাণিজ্যিক চুক্তি এবং এর আওতায় তারা এখন শুধুমাত্র নির্ধারিত এই দশটি কূপই খনন করবে। কূপের সম্পূর্ন মালিকানা বাংলাদেশের থাকবে।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা দাবী করেন, গ্যাযপ্রমের সাথে এই চুক্তির ফলে দশটি কূপ খননের গড় ব্যয় এর আগে অন্যান্য বিদেশী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কূপ খননের ব্যয়ের চেয়ে কম হবে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

বাংলাদেশি পোশাকের নতুন সম্ভাবনার দ্বার মালয়েশিয়া

NewImage


অর্থনৈতিক রিপোর্টার

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের নতুন বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মেলা ‘শোকেজ বাংলাদেশ-২০১২’ আয়োজন সম্পর্কিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, সে দেশের সরকার ইতিমধ্যে তৈরি পোশাকসহ ৩০০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ায় বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রফতানি করা যাবে। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, হারবাল পণ্য, রাবার, প্লাস্টিক, সিরামিক, টেবিল ওয়্যার, হালাল খাদ্য রফতানির সুযোগ রয়েছে। 
ডিসিসিআইয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। ডিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়, এমসিসিআইর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নূরুল ইসলাম, মহাসচিব আলমগীর জলিল, মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নূরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বাংলাদেশের শিল্প খাতে বিদ্যমান সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, দেশের ইমেজ ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য মালয়েশিয়ায় এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের আবহমানকালের কৃষ্টি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্প উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। এ মেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে সুসংহত পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাত গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। অতীতে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে নীতির পরিবর্তন হওয়ায় শিল্পায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও শিল্পনীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ মেলা আয়োজনের মাধ্যমে সে দেশে বাংলাদেশি পণ্যের ভোক্তা শ্রেণী তৈরি হবে। ফলে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের উৎসাহ পাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে উদীয়মান শিল্প খাতে মালয়েশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
বক্তারা বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ করে দিলে মালয়েশিয়া থেকে বছরে দেড় বিলিয়ন ইউএস ডলার বাংলাদেশে আসবে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ বৈধ বাংলাদেশি শ্রম শক্তির জন্য দেশে সহজে রেমিটেন্স পাঠাতে আসন্ন শোকেজ বাংলাদেশ-২০১২ তে ব্যাংক ও রেমিটেন্স সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ অবারিত করা হবে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »

বাংলার মেয়ের এভারেস্ট জয়

 

রবিবার, ২০ মে ২০১২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯
বাংলার মেয়ের এভারেস্ট জয়
০ নিশাত মজুমদারের সাফল্যে উদ্বেল সারাদেশ
০ প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রীর অভিনন্দন
শাহীন রহমান ॥ এবার এভারেস্ট বিজয়ী খাতায় প্রথমবারের মতো নাম লেখালেন বাংলাদেশের নারী নিশাত মজুমদার। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় অপর সঙ্গী এমএ মুহিতের সঙ্গে সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করেন। তারা দু’জনই বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের সদস্য হিসেবে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন। এ ক্লাবের সদস্য এমএ মুহিতই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয়বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন। গত বছর ২৫ মে মুহিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্টের চূড়া জয় করেন। বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব নিশাত মজুমদার ও এমএ মুহিতের এভারেস্ট বিজয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মুসা ইব্রাহিম প্রথমবারের মতো এভারেস্ট জয়ের স্বাদ এনে দেন। ২০১০ সালের ২৩ মে তিনি সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করেন। নিশাত মজুমদার ঢাকা ওয়াসায় কর্মরত বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের কোন নারীর প্রথম এভারেস্ট বিজয়ের খবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিতভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াও নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট বিজয়ের খবরের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার ঢাকা ওয়াসার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার বাবা আব্দুল মান্নান মজুমদার একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচিত সম্পাদকম-লীর সদস্য। নিশাত মজুমদার যেমন এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম নারী তেমনি এমএ মুহিত প্রথম ব্যক্তি যিনি এভারেস্টে উভয় চূড়া দিয়ে পর্বত আরোহণ করেছেন। জানা গেছে, গত বছর তিনি তিব্বতের দিক দিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেও এভার তিনি নেপালের দিক দিয়ে এভারেস্ট বিজয় করেছেন। নিশাত মজুমদার ও এমএ মুহিতের এবারের পর্বতারোহে সঙ্গে ছিলেন নেপালের তিনজন শেরপা। গ্রীনিজ বিজয়ী শেরপা নেপাল থেকে জানিয়েছেন তার ভাই ক্যাম্প টু থেকে নিশাত ও মুহিতের এভারেস্ট বিজয়ের খবর তাকে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এনামুল হকও পেম্বা দর্জির মাধ্যমে ক্লাবের সদস্য দুজনের এভারেস্ট বিজয়ের খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, শুক্রবারের আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে তাদের এ অভিযান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সব অনিশ্চয়তার আঁধার কাটিয়ে শনিবার সকালেই তাদের এভারেস্ট বিজয়ের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মেয়ে নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট বিজয়ের খবরে খুব খুশি তার বাবা আব্দুল মান্নান মজুমদার। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর গর্বে বিষয় কিছু হতে পারে না। তা মাও এ খবরে আনন্দে আত্মহারা। তিনি বলেন, এ খবরে তার খুব আনন্দ লাগছে। তবে মেয়ে দেশে না ফেরা পর্যন্ত শান্তি লাগছে না। বাংলা মাউন্টেয়ারিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিশাত মজুমদারের পর্বতারোহের কৃতিত্ব বাংলাদেশের সব পর্বতারোহীকে গর্বিত করেছে। এখন বাংলাদেশের অনেক কিছুই ঘটছে যা আগে নারীদের ক্ষেত্রে ঘটেনি। তার এভারেস্ট বিজয় মহিলাদের এবং নারী উন্নয়ন উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্দীপনার বিষয়।
এছাড়া এভারেস্ট অভিযানে থাকা বাংলাদেশের অপর এক নারী দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অভিযান থেকে ছিটকে পড়েছেন। জানা গেছে ওয়াসফিয়া নাজরীন তাঁর সহযোগী শেরপারা ক্যাম্প থ্রিতে দুর্ঘটনায় পড়েছেন। গত শুক্রবার সকালে ভয়াবহ তুষার ধসে ওয়াসফিয়ার তাঁবু ল-ভ- হয়ে যায়। এতে তাঁর সহযোগী দুই শেরপা আহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ। এ কারণে ওয়াসফিয়ার সামিট পুশ (চূড়ার দিকে যাত্রা) বিলম্বিত হয়েছে।
বাংলাদেশের কোন নারী হিসেবে নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট বিজয়ের খবরে অনেককেই আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেক সংগঠনে পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। তারা বলেন, প্রথম কোন নারী হিসেবে নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট বিজয় জাতির জন্য বিরাট সম্মান বয়ে এনেছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিনন্দন বার্তায় বলেন, নিশাত মজুমদারের সাহসিকতায় দেশবাসী গর্বিত। প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে নিশাত বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করায় দেশবাসীর সঙ্গে আমিও গর্বিত। প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এ প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে নিশাত মজুমদার বাঙালীর সাহসিকতা পরিচয় দিয়েছেন। তার এ সাফল্য আগামী প্রজন্ম অনপ্রাণিত হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্ট বিজয়ে বাংলাদেশের প্রথম বিজয়ী মহিলা নিশাত মজুমদারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেন এ গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মুুখ উজ্জ্বল হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বাংলাদেশী নিশাত মজুমদারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশী অন্য নারীরা তার এ সাফল্য অনুকরণের মাধ্যমে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অনুপ্রাণিত হবে। তিনি বলেন, এক মহিলা হয়েও এভারেস্ট বিজয় সারাবিশ্বে স্বজাতির মাথাকে উন্নত করেছে। সারাদেশের জনগণ নিশাত মজুমদারের এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে। আমিও তাদের আনন্দে নিজেকে শামিল করছি।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও এভারেস্ট বিজয়ী হওয়া ঘটনায় নিশাত মজুমদারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শনিবার এক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা আজ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কর্মকা- বিচারাঙ্গন, ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানাবিধ অঙ্গনে তাদের পদার্পণ সাফল্যের সঙ্গে অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আগেই উত্তোলিত হয়েছে। এবার সেই পতাকাটি এক মহিলার উদ্যোগে উড়বে এটা অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। এদিকে নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহিম। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রথম বাংলাদেশী মেয়ে হিসেবে এভারেস্ট বিজয় একটা আনন্দের বিষয়। এতে প্রমাণ হয়েছে মেয়েদের অসাধ্য কিছু নেই। এত বড় বিষয় এ কারণে ছেলেরা এবং মেয়েরা চাইলে সমানতালে লড়তে পারে। চ্যালেঞ্জ তা যত বড় হোক না কেন সব জাগাতে মেয়েরা সমানভারে পারদর্শিতা দেখাতে সক্ষম। 
নিশাত মজুমদার প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করায় আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন ( অব) এতি তাজুল ইসলাম এমপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ( অব) হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানউদ্দিন আহমেদ রাজা, মহাসচিব ( প্রশাসন) এমদাদ হোসেন মতিন, মহাসচিব (অর্থ) মনোয়ারুল হক খান লাবলু, মহাসচিব (অর্থ) মনিরুল হক, যুগ্ম মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীর প্রতীকসহ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
তবে নিশাত মজুমদার মেয়ে হিসেবে এভারেস্ট বিজয় করলেও এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এভারেস্টে পৌঁছানোটা খুব সহজ ছিল। তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ, মোকাবেলা করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা। ছোটবেলা থেকে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় নিশাত। নিশাতের জন্ম লক্ষ্মীপুরে। দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। রাজধানীর বটমুলী হোম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা সিটি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কিছু দিন কাজ করেছেন। সেখান থেকেই ইনাম আল হকের সঙ্গে পরিচয়। তারপর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবে (বিএমটিসি) যোগদান।
হিমালয় পর্বতকে জয় করতে হবেই এ উপলব্ধি থেকে বিএমটিসি হিমালয়ে অভিযানের জন্য প্রথম মহিলা দল পাঠায়। সেটি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্ব^রের কথা। সেই দল প্রথম এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছায়। পাঁচজনের সেই দলের কনিষ্ঠতম সদস্য ছিলেন নিশাত মজুমদার। এরপর দেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী সাদিয়া সুলতানার নেতৃত্বে ২০০৬ সালের নারী দিবসে কেওক্রাডাং ট্রেকিংয়ে অংশ নেন নিশাত।
২০০৮ সালের ৪ জুন নেপালে হিমালয় পর্বতমালার অন্নপূর্ণা হিমালে সিঙ্গাচুলি পর্বতে ওঠেন নিশাত। যার উচ্চতা ২১ হাজার ৩২৮ ফুট (ছয় হাজার ৫০১ মিটার)। ওই অভিযানে সিঙ্গাচুলি অভিযানের পুরো দলের নেতৃত্ব দেন নিশাত মজুমদার। ১৯৭৫ সালের ১৬ মে জাপানের জুনকো তাবেই বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বত জয় করেন স্টেসি অ্যালিসন ১৯৮৮ সালে।

 

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান »